প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেনের গোডাউন থেকে বিপুল সরকারি ত্রাণ উদ্ধার! চাঞ্চল্য বহরমপুরে

বহরমপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার প্রাক্তন শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নিত্যনতুন বিতর্ক সামনে আসছে। এবার রানীনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেনের বহরমপুরের অফিস কাম গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করল ডোমকল মহকুমা প্রশাসন।

কী ঘটেছিল?

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বহরমপুর থানার উত্তরপাড়া মোড়ের কাছে পূর্বতন জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত সৌমিক হোসেনের ওই গোডাউনে আচমকা হানা দেন ডোমকল মহকুমা শাসকের দপ্তরের কর্মীরা। তাঁদের সাথে ছিল ডোমকল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় সরকারি সিলমোহর দেওয়া ত্রাণের পাহাড়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের আগে বা পরে এই সমস্ত সরকারি সামগ্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বিলি না করে এখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় পরাজিত বিধায়ক সৌমিক হোসেন তাঁর বহরমপুরের বাড়িতে বা অফিসে ছিলেন না। তাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, “দাদা বর্তমানে বাইরে রয়েছেন।”

বিধায়কের গোডাউন থেকে যে সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে সেগুলো হলো ত্রিপল ১০৩ পিস, লুঙ্গি ৩৫০ পিস, শাড়ি ২০০ পিস, বেডশিট ৭৫ পিস, কম্বল ৬০ পিস, ধুতি ৩৫০ এবং বাচ্চাদের জামা ও প্যান্ট ১০০ পিস।

উদ্ধারকাজের সময় গোডাউনে উপস্থিত সৌমিক হোসেনের ঘনিষ্ঠ কর্মী ফিরোজ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। ফিরোজ জানান, ডোমকল মহকুমা প্রশাসন থেকে দিন সাতেক আগেই একটি নোটিশ দিয়ে অবশিষ্ট ত্রাণ সামগ্রী ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই মতোই আজ আধিকারিকরা তা নিতে আসেন।

কিন্তু সরকারি ত্রাণ ডোমকল বা রানীনগরে না রেখে বহরমপুরের ব্যক্তিগত গোডাউনে কেন রাখা হলো? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরোজ আলী বলেন, “ওখানে রাখার মতো কোনো স্পেস (জায়গা) ছিল না। আর বাড়িতে তো গোডাউন নেই।” ভোটের আগে কেন এই সামগ্রী বিলি করা গেল না, তার জবাবে তিনি কার্যত ক্ষোভ বাড়িয়ে বলেন, “হয়তো আগামী দিনে বিলি করার পরিকল্পনা ছিল। যদি আগামী দিনে ভোটে জিতত তারা, তবে বিলি হতো।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ভোটের মুখে বা পরে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ এভাবে আটকে রাখার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাকি অন্য কোনো অনিয়ম ছিল, তা খতিয়ে দেখছে ডোমকল মহকুমা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *