মুর্শিদাবাদ, ২৫ মে: রাজ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে নবান্নের জারি করা নতুন ‘৩ডি ফর্মুলা’ (Detect, Delete, Deport) কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। লালগোলা ও ভগবানগোলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে সরাসরি পাঠানো হলো জেলা প্রশাসনের তৈরি ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের দীর্ঘসময় ধরে থানায় আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর ধৃতদের দ্রুত ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখতে হবে এবং সেখান থেকে তাদের বিএসএফ (BSF)-এর হাতে হস্তান্তর করা হবে। বিএসএফ পরবর্তীতে তাদের ‘পুশ ব্যাক’ বা সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এছাড়া, এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের লালগোলায় অবস্থিত ‘পদ্মাভবন’ এখন খবরের শিরোনামে। মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি এই তিনতলা ভবনের নিচতলায় থাকেন মৎস্যজীবীরা, দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি ব্যাঙ্কের শাখা, আর তৃতীয় তলাটিকে তড়িঘড়ি রূপান্তর করা হয়েছে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ। পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এখানেই রাখা হয়েছে আটক হওয়া তিন অনুপ্রবেশকারীকে।
বাইরে থেকে দেখা যায়, তিনতলার ঘরে আলো-পাখা জ্বলছে, তবে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। কঠোর নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বিডিও অফিসের নির্দেশে। স্থানীয় এক ক্যাটারার বা হোম সার্ভিস প্রদানকারীকে দুবেলা খাবার দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের তৈরি এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে সন্দেহভাজনদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং বিএসএফ-এর সাথে সমন্বয় করে তাদের ফেরত পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলার এই কড়া পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।