বহরমপুরে রেল ওভারব্রিজের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপি তুমুল তরজা

পার্টি অফিস দখল ও উচ্ছেদের রাজনীতি নিয়ে উত্তপ্ত সুভাষ পল্লী

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ পল্লী এলাকায় রেল ওভারব্রিজ (পঞ্চাননতলা রেল ব্রিজ) নির্মাণের জেরে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বচসা ছড়াল। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুভাষ পল্লী এলাকার একটি বিতর্কিত জমি, যাকে কংগ্রেস নিজেদের পার্টি অফিস বলে দাবি করছে এবং বিজেপির দাবি সেটি একটি খাস জমি।

কংগ্রেসের অভিযোগ: “দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি”

কংগ্রেস নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, বহরমপুর পৌরসভার ২২ নং ওয়ার্ডের সুভাষ পল্লীতে তাদের একটি পুরনো দলীয় কার্যালয় আছে। রেল ব্রিজের কাজের জন্য উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের পুনর্বাসন দেওয়ার নামে বিজেপি জোরপূর্বক সেই জায়গাটি দখল করতে এসেছে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, “এতো বছর ধরে তৃণমূল বা বিজেপি কারোরই উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা মনে পড়েনি। আজ এতদিন পর বিজেপির মনে হলো যে কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল করে পুনর্বাসন দিতে হবে?” কংগ্রেসের দাবি, বহরমপুর শহরে প্রচুর সরকারি খাস জমি রয়েছে, প্রশাসন চাইলে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলিকে সেখানে জায়গা দিতে পারে। কিন্তু তা না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কংগ্রেসের পার্টি অফিস কেন টার্গেট করা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তারা।

বিজেপির পাল্টা দাবি: “মানুষের চেয়ে কংগ্রেসের কাছে ঝান্ডা বড়”

পাল্টা জবাবে বিজেপির মণ্ডল ১-এর সভাপতি মনোজ সাহা জানান, তাঁরা কোনো ঝামেলা বা সংঘাত করতে চাননি, বরং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে পঞ্চাননতলা রেল ব্রিজের কাজ চলছে এবং প্রায় দু-মাস আগে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সুভাষ পল্লীতে প্রায় ৩০টি এবং বেঙ্গল নার্সারি এলাকায় প্রায় ৫০টি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। বিগত এক সপ্তাহ ধরে বিজেপি কর্মীরা গৃহহীন পরিবারগুলিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য জমি খুঁজছেন।

মনোজ বাবুর দাবি, সুভাষ পল্লীর যে জায়গাটিতে তাঁরা ৮-৯টি ঘর তৈরি করে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেছিলেন, সেখানে বিগত কয়েক বছরে কোনো সক্রিয় পার্টি অফিসের চিহ্ন ছিল না। তাঁরা যখন কাজ শুরু করেন, তখন কংগ্রেস কর্মীরা এসে বাধা দেন। বিজেপি নেতা বলেন,

“আমরা সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে আপনারা অর্ধেক জায়গা পার্টি অফিসের জন্য রাখুন এবং অর্ধেকটা গৃহহীন মানুষের জন্য দিন। কিন্তু তবুও তারা রাজি হয়নি এবং কটু মন্তব্য করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে ওই এলাকার সমস্ত অফিস বা কাঠামোই মূলত বেআইনি। যদি সেখানে বিজেপির কোনো অফিস থাকত, তবে মানুষের স্বার্থে তাঁরা সেটিও ছেড়ে দিতেন। একই সাথে তিনি প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীকে নিশানা করে বলেন, এই প্রজেক্টটি ২০১৪-১৫ সালের। তাহলে এতদিন ধরে কংগ্রেস কেন এই পরিবারগুলির স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারল না?

এই ঘটনার পর বিজেপি এলাকা থেকে সাময়িকভাবে সরে এলেও উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অন্য কোথাও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং কংগ্রেসের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *