নিউজ ফ্রন্ট, ১৬ জুন:
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদলের পর থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো তথা তৃনমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। পূর্বতন মমতা সরকারের আমলে হওয়া একাধিক দুর্নীতির তদন্ত এখন তীব্র গতিতে এগোচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, এ বার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO Complex) ইডি আধিকারিকরা তাঁকে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
আর্থিক তছরুপ ও সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্ত
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং মানি লন্ডারিং (আর্থিক তছরুপ) সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল দিক নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হয়। মূলত কোন কোন পথে এই টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতেই এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ।
কী এই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি?
এই মামলাটি পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক বিশাল অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলি হলো:
- নিয়ম লঙ্ঘন: শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সমস্ত সরকারি নিয়ম ও নীতিকে সম্পূর্ণরূপে অমান্য করা হয়েছিল।
- অযোগ্যদের নিয়োগ: এমন অনেক প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল যারা ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি অথবা পরীক্ষায় অত্যন্ত কম নম্বর পেয়েছিলেন।
- তালিকায় কারচুপি: বহু প্রার্থীর নাম মূল মেরিট লিস্ট বা প্যানেলে না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অবৈধভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
- মেধার অবমাননা: অভিযোগ, যোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, শুধুমাত্র বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের এই সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা
কলকাতা হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণের পর এই বিশাল দুর্নীতি চক্রের জাল বা নেটওয়ার্কের প্রতিটি পরত উন্মোচন করতে যৌথভাবে ময়দানে নামে সিবিআই (CBI) এবং ইডি (ED)।
এই মামলায় তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও বড় বড় নাম ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।