নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল, ১৬ জুলাই: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে দেশজুড়ে একযোগে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার দেশের ১৩টি স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দিল্লি, হরিয়ানার বল্লভগড়, উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ-সহ একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চলে।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার পার রঘুনাথপুর গ্রামে সকাল প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ ইডির একটি দল পৌঁছে মির রাকিব আলির বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। বাড়ির ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে মির রাকিব আলির জামাই আদিল উল রহমান থাকেন। তাঁকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উত্তরপ্রদেশ এটিএসের এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করত। পাশাপাশি তাদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হতো বলে অভিযোগ। এই গোটা কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল বলেও ইডির দাবি।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কয়েকটি দাতব্য ট্রাস্ট ও সংস্থা বিদেশি অনুদানের অর্থ একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং তথাকথিত ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে ঘুরিয়ে অবৈধ কাজে ব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ। নগদ অর্থ উত্তোলন এবং ছোট ছোট অঙ্কে একাধিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের কালিলকাপুরে অবস্থিত হাড়োয়া আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুমে তল্লাশির সময় ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং কয়েকটি সোনার মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে। ওই অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য ব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডোমকলে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ইডির আধিকারিকরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত না করেই ফিরে যান। তবে এ বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর এই আদিল উর রহমান কে আগে একবার এই কেসে গ্রেপ্তার করেছিলো পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছিলো কয়েক কোটি টাকা।