আমরা কি ১৯০ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলে ফিরে যাচ্ছি?
বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি মুর্শিদাবাদ ও মালদা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে। রেজিনগরের একটি নির্বাচনী সভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) লক্ষ্য করে চরম উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এবার আইনি বিপাকে জড়ালেন নওদার AJUP (আম জনতা উন্নয়ন পার্টি) বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তাঁর এই বেলাগাম মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। তবে আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েও নিজের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ এই দাপুটে নেতা।
রেজিনগরের সভা থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেছিলেন “ভরতপুরে ভোটে হেরেও লাফাচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, ভোটে জিতেছেন, ভাল কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে কম আস্ফালন করতে বলুন। আমি ময়দানে নামলে বিজেপির পতাকা নেওয়ার লোক থাকবে না।”
জোড়া থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও একধাপ এগিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন AJUP বিধায়ক। দিলীপ ঘোষ ও অসীম সরকারের মতো বিজেপি নেতাদের পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, “বিজেপির এমএলএ অসীম সরকার মুসলমানদের কোরআনকে নিয়ে অনেক বাজে কথা বলেছিল। তৎকালীন মমতা ব্যানার্জীর সরকারের আমলে ১০০টা থানায় এফআইআর হয়েছিল। রেজাল্ট কী হয়েছিল? শূন্য! পুলিশ কোনো অ্যাকশন নিতে পারেনি। কিছুদিন আগে দিলীপ ঘোষ মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য পাকিস্তানে চলে যেতে বলেছিলেন। তখন কেন এফআইআর বা সমালোচনা হয় না? আমরা কি ১৯০ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলে ফিরে যাচ্ছি? আমরা সুশাসন চাই।”
ভোটের পাটিগণিত তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিভাজনের রাজনীতির কারণে শাসক দল ক্ষমতায় এলেও সাধারণ মানুষের বড় অংশ বিরোধীদের সাথে আছে। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, “শাসক দল ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬ হাজার ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, সিপিএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ মিলে বিরোধীদের মোট ভোট ৩ কোটি ২৬ লাখ। ভোট কাটাকাটির জন্য ওরা ক্ষমতায় এসেছে। বাংলার ১১.৫ কোটি মানুষকে সুশাসন ও উন্নয়ন দিতে না পারলে মানুষ এদেরও বিরোধী আসনে পাঠিয়ে দেবে।”
নিজের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিধায়ক জানান যে, তিনি মানুষের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ করেন না। তাঁর কথায়, “আজ সকালেও আমি ১০০ জনের সাথে দেখা করেছি, যার মধ্যে ২০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে তাঁদের আধার কার্ড সংশোধন ও ইনকাম সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমরা থানায় কোনো মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর ধর্ম বা বাড়ি জিজ্ঞাসা করি না। কিন্তু আমাকে যখন কেউ অন্যরকম ট্রিটমেন্ট করতে চায়, আমি তাকে রেয়াত করব না।”
“দলবদলু ও তোলাবাজদের ভয় পাই না, ক্ষমতা থাকলে পুলিশ অ্যারেস্ট করুক”
তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের কর্মীদের কড়া সমালোচনা করে হুমায়ুন দাবি করেন, ৪ঠা জুনের পর যারা তৃণমূলের হয়ে দালালি, তোলাবাজি ও গুন্ডামি করত, তারাই এখন বিজেপির গেরুয়া পতাকা ধরে লড়তে আসছে।
আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সাফ বলেন, “আমার জীবনটাই লড়াই সংগ্রামের। ভারতবর্ষের সংবিধান এখনো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আছে, এটা এখনো হিন্দুস্থান হয়ে যায়নি। দিলীপ ঘোষ বা শুভেন্দু অধিকারীর যতটুকু অধিকার, ভারতবাসী হিসেবে আমারও ততটুকুই অধিকার আছে। আমার বিরুদ্ধে চ্যাংব্যাঙে মামলা করে আমাকে ডরানো যাবে না। আমি তো এখানেই দাঁড়িয়ে আছি। পুলিশ আমাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাক, আমি আদালতের মাধ্যমে জুডিশিয়াল লড়াই লড়ব।”