লখনউ, ২৬ জুন: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে বড় সাফল্য পেল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং দান আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ আটজন অভিযুক্তকেই হেফাজতে নিয়ে আদালতে পেশ করে। আদালত তাদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ৭৯ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই অর্থের একটি বড় অংশ রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পত্তির নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
তদন্তে নাম উঠে এসেছে আটজনের।
- রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু: দান গণনার পুরো প্রক্রিয়ার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। গণনা কক্ষের চাবি তাঁর কাছেই থাকত। তদন্তে তাঁকে মূল অভিযুক্তদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- লভকুশ মিশ্র: দান গণনার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে।
- অনুকল্প মিশ্র: দান গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকেও টাকা উদ্ধার হয়েছে।
- মনীশ যাদব: গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকেও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তে দাবি।
- অবিনাশ শুক্লা: দান গণনার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তদন্তে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- সুভাষ শ্রীবাস্তব: দান গণনার ইনচার্জ ছিলেন।
- করুণেশ পাণ্ডে এবং রমাশঙ্কর মিশ্র: তদন্তকারীদের দাবি, দান আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে এঁদেরও ভূমিকা ছিল।
অভিযোগপত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চুরি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ।
তদন্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। SIT অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং দান সংগ্রহ ও গণনার পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট করছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।