প্রদেশ কংগ্রেসের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস, বাপ্পার যোগদান ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদন, মুর্শিদাবাদ:
মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের অন্দরে প্রদেশ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভের আঁচ। গত কাল কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে কংগ্রেসে ফেরা নেতা হাসানুজ্জামান বাপ্পার কংগ্রেসে পুনরায় যোগদান এবং তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব। জেলার শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় স্তরের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই, একতরফাভাবে এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে প্রদেশ নেতৃত্ব, যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিরোধী।

জয়ন্ত দাস, জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র

কী কারণে এই ক্ষোভ?

মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হাসানুজ্জামান বাপ্পার ‘রাজনৈতিক অবস্থান’। জেলা কংগ্রেসের দাবি গত ১৮ এপ্রিল লালবাগে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকাতলে যোগদান করেছিলেন হাসানুজ্জামান বাপ্পা। নির্বাচনের সময় তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়েছেন।
ভোটের লড়াই মিটতে না মিটতেই, জেলা বা ব্লক নেতৃত্বের মতামত না নিয়ে তাঁকে আবারও প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে দলে স্বাগত জানানো হয়েছে। জেলা কংগ্রেসের প্রশ্ন, কেন স্থানীয় নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?
মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের দাবি, একটি রাজনৈতিক দল নিয়ম ও শৃঙ্খলার ওপর টিকে থাকে। ব্লক, জেলা এবং রাজ্য—এই ত্রিস্তরীয় কাঠামোর মর্যাদা রাখা প্রয়োজন। জেলার অনুমতি ছাড়া কোনো নেতাকে প্রদেশে যোগদান করানোয় জেলার গুরুত্বকে খাটো করা হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
কী বললেন জেলা নেতৃত্ব?
সংবাদমাধ্যমের সামনে জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস স্পষ্ট জানান, তাঁদের লড়াই তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অথচ যে নেতা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট ছিলেন, তাঁকে পুনরায় দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
জয়ন্ত দাস আরো বলেন , “তৃণমূল আজ যখন বিলুপ্তির পথে, তখন অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কংগ্রেসে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, জেলার মতামতকে অবজ্ঞা করে কাউকে সরাসরি দলে নেওয়া হবে। আমরা কোনো প্যারালাল শক্তিকে অক্সিজেন দেওয়ার পক্ষপাতী নই।”

মুর্শিদাবাদকে পশ্চিমবঙ্গের ‘কংগ্রেসের ঘাঁটি’ হিসেবে অভিহিত করে জেলা নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, এই জেলার লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকে আছে। জেলা নেতৃত্বের দাবি কোনো স্তরেই জেলার অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। যদি জেলাকে বাদ দিয়ে প্রদেশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে জেলা ও প্রদেশের মধ্যে বড় ধরণের দূরত্ব বা ‘গ্যাপ’ তৈরি হতে পারে, যা দলের জন্য শুভ হবে না। প্রদেশ কংগ্রেস আলাদা কোনো শক্তি নয়, বরং সমস্ত জেলার সমষ্টি। সেই বিষয়টি প্রদেশ নেতৃত্বের মাথায় রাখা উচিত।
মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ কেবল একটি নির্দিষ্ট যোগদান নিয়ে নয়, বরং এটি প্রদেশ নেতৃত্বের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে এক বড় ধরণের বিদ্রোহ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরে এই ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব আসন্ন দিনগুলোতে জেলা ও প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, জেলা কংগ্রেসের এই বার্তার পর প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনো প্রতিক্রিয়া দেয় কি না, বা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *