গোবিন্দপুর রেলগেট দুর্ঘটনা: মৃতদের পরিবারকে ₹৫ লক্ষ, আহতদের ₹১ লক্ষ আর্থিক সহায়তা

দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ, বৃহস্পতিবার:
গত শুক্রবার বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর রেলগেটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক রেল-পুলকার দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ সফরে এসে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক এবং আহতদের পরিবারের হাতে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে গোবিন্দপুরে পৌঁছে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। এরপর তিনি দুপুর ১টা নাগাদ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন।

মৃতদের পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের পরিবারের হাতে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
পরিবারের পাশে আছি। অর্থ দিয়ে এই ধরনের ক্ষতিপূরণ কখনও হয় না। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। এই ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। রেল এবং পুলিশের পক্ষ থেকে গেটম্যানের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, দায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এটা ক্ষমার অযোগ্য। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

গোবিন্দপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে রেল দুর্ঘটনায় আহত খুদে পড়ুয়া আনিশা খাতুনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতাল সূত্রে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও নেন তিনি।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
ওর চিকিৎসা চলবে। চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছি, হাসপাতালের এমএসভিপি সব বিষয় দেখবেন। ওর মা ও শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি ওর পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছি। আজ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা একটি আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। এটা শুধু সাহায্য, কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। বর্তমানে ও বিপন্মুক্ত (আউট অব ডেঞ্জার), তবে শরীরে একাধিক ফ্র্যাকচার রয়েছে। চিকিৎসা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
এটি সম্পূর্ণ মানবিক ভুল (কমপ্লিটলি হিউম্যান এরর)। চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা-ও মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রীর সার্কিট হাউসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে না গিয়ে বহরমপুর স্টেডিয়ামে পৌঁছন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর রেলগেটে একটি পুলকার ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনায় চারজন খুদে পড়ুয়া এবং একজন পথচারী, মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও একাধিক শিশু গুরুতর আহত হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রেলগেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে মুর্শিদাবাদে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *