বিশেষ সংবাদদাতা: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় বিশালাকার হিমবাহ ধসে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। বরফ, কাদা ও পানির প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বিপর্যয়ের কারণ ও ভয়াবহতা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,০০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত একটি বিশাল হিমবাহ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার কারণে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে (USGS) স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো ভূমিকম্প ছিল না; বরং টন টন বরফ ও শিলা উপত্যকায় ভেঙে পড়ার আঘাতেই ভূমিতে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়। এর ফলে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ট্রিশুলি নদীর পানির স্তর প্রায় ৯ মিটার (৩০ ফুট) পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বন্যার হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া জনৈক জনক বাহাদুর জানান, “হঠাৎ করেই যেন বোমার মতো বিকট শব্দে পানির তোড় নেমে এলো। দূর থেকে শান্ত মনে হওয়া নদীটি চোখের নিমেষে চারপাশ ভাসিয়ে নিয়ে গেল।”

উদ্ধারকাজ ও সহায়তা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপাল সেনা স্থল ও আকাশপথে যৌথ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাবার, তাঁবু ও ওষুধ পৌঁছে দিতে কাঠমান্ডু থেকে ৪০টিরও বেশি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
বিপর্যয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের সহায়তায় কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে: +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭, +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ এবং +৯৭৭ ৯৮১ ০৩২ ৬১১৭

ভারতে জারি হাই অ্যালার্ট
নেপালের এই বিপর্যয়ের জেরে প্রতিবেশী ভারতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিহার এবং উত্তর প্রদেশ প্রশাসন ও এনডিআরএফ (NDRF) টিমকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন নদীগুলির পানির স্তরের ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
নিউ জিল্যান্ডের ভূতত্ত্ববিদ ডঃ সাইমন কক্স জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা বিশাল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষের কারণে আগামী ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক ও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভঙ্গুরতার এটি একটি মারাত্মক উদাহরণ। নেপালে ২,০০০-এরও বেশি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২১টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গত দুই দশকে এ ধরনের ঘনঘন বিপর্যয় দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক প্রভাবকেই সামনে নিয়ে আসছে।
