লখনউ, ২২ জুন: উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় আজ দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৪ জন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আলিগঞ্জের পুরানিয়া এলাকায় একটি দোকানের ওপর চলা কোচিং সেন্টারে এই আগুন লাগে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে ভরতি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানিয়েছেন যে, বহুতল ভবনটিতে অবস্থিত একটি অ্যানিমেশন সেন্টারে আগুন লেগেছিল। সেখানে উপস্থিত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৪ জন পড়ুয়ার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, দমকলকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বহুতলের প্রতিটি কোণ, শৌচাগার এবং অন্যান্য অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন যাতে কোনো ছাত্র আটকে না থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের খবর অনুযায়ী, কমপ্লেক্সের ভেতরে হঠাৎ করেই আগুন লাগে এবং তা মুহূর্তের মধ্যে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে ভেতরে থাকা ছাত্রছাত্রীরা বেরোনোর পথ না পেয়ে আটকে পড়ে। উল্লেখ্য, এই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে কোচিং সেন্টার ছাড়াও একটি গেম জোন এবং শোরুম ছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। আগুন লাগার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, কয়েকজন ছাত্র কোচিং সেন্টারের শৌচাগারে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে, আবার কয়েকজন নিরুপায় হয়ে প্রথম তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই গাফিলতির পেছনে যারা জড়িত, সেই দোষীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।” ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে তিনি আলিগড় ও ফিরোজাবাদ জেলার পূর্বনির্ধারিত সফর মাঝপথেই বাতিল করে লখনউতে ফিরে এসেছেন।