লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষ উপভোক্তা! জালিয়াতি চক্রের হদিসে আরও এক গ্রেফতার, ৮ অ্যাকাউন্টে ঢুকত সরকারি টাকা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে নেমে আরও এক জনকে গ্রেফতার করল বহরমপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার ওসমানপুর এলাকা থেকে তারিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাকে বহরমপুর আদালতে তোলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তারিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা মোট ৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা পড়ত। তদন্তে উঠে এসেছে, তারিকুলের নিজের নামে ৩টি, তাঁর স্ত্রীর নামে ৩টি এবং দুই ছেলের নামে ২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। অভিযোগ, এই ৮টি অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে মোট প্রায় ৮ হাজার টাকা করে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ঢুকত।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। এর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রতারণার অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে বহরমপুরের রাকিবুল ইসলামের নাম তুলে ধরার পরই তদন্তে গতি আসে। এরপর রাকিবুলকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে বহরমপুর থানার বিশেষ তদন্তকারী দল।

তদন্তকারীদের দাবি, রাকিবুলকে জেরা করেই মোস্তাফিজুর রহমানের খোঁজ মেলে। পরে মোস্তাফিজুরকে গ্রেফতার করা হলে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়ো উপভোক্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে। পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় মোস্তাফিজুর একটি বৃহৎ জালিয়াতি চক্রের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছে। সেই চক্রের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন তারিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ভুয়ো নথি, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং জাল তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এক-দু’জন নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

কীভাবে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পের অর্থ বছরের পর বছর পুরুষদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছল, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্মিত তদন্তকারী আধিকারিকরাও। ইতিমধ্যেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং উপভোক্তাদের নথি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

শনিবার বহরমপুর আদালতে ধৃত তারিকুল ইসলামকে পেশ করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হলে বিচারক ৯ দিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের তরফে রাজ্যজুড়ে বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কত কোটি টাকার সরকারি অর্থ বেআইনিভাবে তোলা হয়েছে, তা জানতে তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *