নিউজ ফ্রন্ট, দিল্লী, ২৪ মে: প্রায় চার দশক পর ফের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের পদচারণায় মুখরিত হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সাম্প্রতিক ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন পরিবেশপ্রেমী এবং বক্সা লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। ‘ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি’ (NTCA)-র নির্দেশিকা মেনে বক্সায় বাঘ পুনর্বাসনের (Tiger Reintroduction) প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র।
এক সময় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের অবাধ বিচরণ থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বাঘের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যদিও গত কয়েক বছরে ক্যামেরা ট্র্যাপে দু-একবার বাঘের ছবি ধরা পড়েছিল, তবে বনবিভাগের মতে সেগুলি ছিল মূলত ভুটান বা অসমের জঙ্গল থেকে আসা পরিযায়ী বাঘ। কিন্তু এবার বক্সায় ‘রেসিডেন্ট’ বাঘ বা নিজস্ব বাঘের সংখ্যা গড়ে তোলাই লক্ষ্য কেন্দ্রের।
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানান, “আমরা জানি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এক সময় বক্সায় ছিল, কিন্তু এখন তা আর দেখা যায় না। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এনটিসিএ-র গাইডলাইন মেনে বক্সায় বাঘ পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে।” সূত্রের খবর, বাঘের খাদ্যভাণ্ডার বাড়ানো এবং বনাঞ্চলের পরিবেশ উন্নয়নের কাজ জোরকদমে চলছে।
বক্সার এই উদ্যোগ ভারতের সামগ্রিক বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়। একদিকে ‘প্রোজেক্ট চিতা’-র মাধ্যমে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা ফিরিয়ে এনে দেশের তৃণভূমি বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের জঙ্গলগুলিতে বাঘের আবাসস্থল পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব প্রশান্ত আগরওয়ালের লেখা ‘ব্রিংগিং দ্য চিতা ব্যাক টু ইন্ডিয়া’ বইটিতে এই কঠিন কূটনৈতিক ও সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে। এবার সেই একই মডেল অনুসরণ করে বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে এনে জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তা দিচ্ছে ভারত।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বন-পরিবেশ যে এক নতুন দিশা পাবে, তা বলাই বাহুল্য।