আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে বাড়ল পেট্রোল-ডিজেল ও সিএনজির দাম

চার বছর পর বড় মূল্যবৃদ্ধি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৫ মে :

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে লাগামছাড়া বৃদ্ধির জেরে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দামে বড়সড় বৃদ্ধি করল সরকারি তেল সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দামে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বেড়েছে। পাশাপাশি সিএনজির দামও কিলোগ্রাম প্রতি ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

প্রায় চার বছর পর এই বড় মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তেল সংস্থাগুলি বলে জানা গিয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৯৭.৭৭ টাকা। ডিজেলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯০.৬৭ টাকা প্রতি লিটার। অন্যদিকে সিএনজির দাম বেড়ে দিল্লিতে প্রতি কেজি ৭৯.০৯ টাকা হয়েছে।

নতুন দামে মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম হয়েছে ১০৬.৬৮ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ৯৩.১৪ টাকা। কলকাতায় পেট্রোলের নতুন দাম ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.১৩ টাকা প্রতি লিটার। চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৩.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.৩৫ টাকা প্রতি লিটার।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৯ ডলার ছিল, তা বর্তমানে বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ফলে তেল আমদানির খরচও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম স্থির রাখার ফলে তেল সংস্থাগুলির লোকসানও বাড়ছিল বলে সূত্রের খবর।

এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কার্যত স্থির ছিল। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্র সরকার লিটার প্রতি ২ টাকা দাম কমিয়েছিল। এবার আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং তেল সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতির কারণেই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহণ খরচ বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে পণ্য পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন দ্রব্যের দামও বাড়তে পারে।

তবে কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও ভারত প্রতিবেশী বহু দেশের তুলনায় জ্বালানির দাম এখনও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *