কলকাতা, ২৬ জুলাই: পশ্চিমবঙ্গের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো AIC Techno (Atal Incubation Centre)। নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশন (AIM)-এর সহায়তায় গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম অটল ইনকিউবেশন সেন্টার। উদ্যোক্তা, গবেষক, উদ্ভাবক এবং নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি ড. অশোক লাহিড়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, আইআইটি খড়্গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিফ ইনোভেশন অফিসার, AIC Techno-র চিফ মেন্টর তথা Make Calcutta Relevant Again-এর প্রতিষ্ঠাতা মেঘদূত রায়চৌধুরী, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশনের প্রতিনিধিরা।

মেঘদূত রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা AIC Techno-র লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০-রও বেশি স্টার্টআপকে ইনকিউবেট করা। উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ধারণাকে সফল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে এই কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে মেন্টরশিপ, ব্যবসায়িক পরামর্শ, বিনিয়োগ সংগ্রহে সহায়তা, তহবিলের সুযোগ, পণ্য যাচাই, বাজার সংযোগ, আইনগত ও মেধাস্বত্ব (IP) সংক্রান্ত সহায়তা, কর্পোরেট অংশীদারিত্ব, কর্মশালা, মাস্টারক্লাস, বিজনেস ক্লিনিক এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই প্রায় ২০০টি স্টার্টআপ আবেদন জমা পড়েছে AIC Techno-তে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই ধরনের জাতীয় মানের ইনকিউবেশন সেন্টারের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদারই প্রতিফলন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি ড. অশোক লাহিড়ী বলেন, “উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম অটল ইনকিউবেশন সেন্টারের সূচনা রাজ্যের উদ্ভাবন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”

টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও AIC Techno-র চিফ মেন্টর মেঘদূত রায়চৌধুরী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বহু প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্তরের ইনকিউবেশন পরিকাঠামোর অভাব ছিল। AIC Techno সেই শূন্যতা পূরণ করবে। আগামী পাঁচ বছরে ৫০০-রও বেশি স্টার্টআপকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করব। উদ্যোক্তাদের সঠিক পরিকাঠামো, দক্ষ মেন্টরশিপ, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
এই ইনকিউবেশন সেন্টার স্টার্টআপের প্রতিটি ধাপে সহায়তা করবে। ধারণা যাচাই (Idea Validation), প্রোটোটাইপ তৈরি, বাজারে প্রবেশ, ব্যবসা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক মডেল তৈরির ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে AIC Techno। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক এবং গবেষকদের একত্রিত করে একটি সমন্বিত উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্টার্টআপ ইনকিউবেশনের পাশাপাশি AIC Techno ইতিমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। ইনকিউবেশন, অপারেশনস, ফিন্যান্স, লিগ্যাল, পার্টনারশিপ, প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট, প্রশাসন এবং ল্যাব ও মেকারস্পেস পরিচালনার জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, AIC Techno শুধু একটি ইনকিউবেশন সেন্টার নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোগ এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পোন্নয়ন এবং ভারতের বৈশ্বিক উদ্ভাবনী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই উদ্যোগ।