আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী অস্থিরতার মাঝে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি

নয়াদিল্লি, ৭ জুন: আন্তর্জাতিক বাজারে রান্নার গ্যাসের (LPG)-এর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়লেও ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম এখনও বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় অনেক কম। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মাত্র ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীরা ১৪.২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য কার্যত ৬৪২ টাকা পরিশোধ করেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একই সিলিন্ডারের মূল্য ৯৪২ টাকা। অথচ একটি সিলিন্ডার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে বর্তমানে প্রকৃত সরবরাহ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকার মধ্যে। ফলে বিপুল আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে।

সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো উন্নত দেশগুলির তুলনায়ও ভারতে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এদিকে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ ভারতের মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৫৪ শতাংশ সরবরাহ আসে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) হয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে যেকোনও বিঘ্ন সরাসরি ভারতের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কেন্দ্রের দাবি, সংকটকালেও ভারত জ্বালানি আমদানি ও পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশের কোথাও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়নি এবং এলপিজির বোতলজাতকরণ ও বিতরণ স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।

সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আমদানিতে চাপ বাড়ায় দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ৬০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। উৎপাদন প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন (TMT) থেকে বাড়িয়ে ৫২ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে আমদানির উৎসও বহুমুখী করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং আলজেরিয়ার মতো দেশ থেকে এলপিজি সংগ্রহ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি উপলব্ধ এলপিজি মজুতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহস্থালি ব্যবহারকারী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহজনিত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই প্রকৃত সরবরাহ ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম মূল্যে এখনও রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন দেশের কোটি কোটি গ্রাহক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *