সীমান্ত সুরক্ষায় শুভেন্দু সরকারের বড় পদক্ষেপ: বাংলাদেশ সীমান্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু বাউন্ডারি ফেন্সিং

কলকাতা, ২৪ মে: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরেই রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষায় এল আমূল পরিবর্তন। অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্ত এলাকাকে কাটা তারের বেড়া (Barbed Wire Fencing)-য় মুড়িয়ে দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বাউন্ডারি ফেন্সিংয়ের কাজ এখন ‘অ্যাকশন মোডে’।

সরকার সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে প্রশাসন। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৭ কিলোমিটার সীমানা এলাকায় জরিপের কাজ শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা গ্রামের পর গ্রামে গিয়ে জমি হস্তান্তর ও জরিপের কাজ সম্পন্ন করছেন।

সীমান্ত লাগোয়া কালিয়ানি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই ফেন্সিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রায় ৯০০ পরিবারের এই গ্রামে ২০১৭ সাল থেকে বারবার এই আবেদন জানানো হলেও তা ফাইলবন্দি হয়েই ছিল। এখন সরকারের এই তৎপরতা দেখে গ্রামবাসীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। কালিয়ানির বাসিন্দাদের মতে, ফেন্সিং সম্পন্ন হলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে অনেক বেশি নিরাপদ করবে। গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের জমির কাগজপত্র নিয়ে প্রশাসনের কাছে হাজির হচ্ছেন।

সীমান্ত সুরক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, এতদিন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে ফেন্সিংয়ের কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। অতীতে হাইকোর্ট থেকেও মমতা সরকারকে এ বিষয়ে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ৯টি জেলায় ১২৭ কিলোমিটার জমি দাবির বিপরীতে আগের সরকার মাত্র ৮ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সীমান্ত সুরক্ষা এখন রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে এই ফেন্সিং রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *