নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা | ১৫ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ ভাষণ দিলেন ডোমকলের নবনির্বাচিত বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা। বর্তমান বিধানসভায় বামপন্থীদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাতত্ত্বের চেয়েও বড় হলো ‘বিরোধী কণ্ঠস্বর’।
বক্তব্যের শুরুতেই রানা বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই পবিত্র সদনে একসময় ডক্টর প্রফুল্ল ঘোষ, ডক্টর বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো মহীরুহরা কাজ করেছেন। এমনকি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কক্ষের এক বিশেষ গরিমা আছে যা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রতিটি সদস্যের।
“মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে নির্বাচিত হয়ে যখন বিধানসভায় শপথ নিচ্ছিলাম, তখন আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। মনে পড়ছিল এই বাংলার মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জননেতাদের কথা।”
রাজ্যে বিজেপি বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করলেও, মোস্তাফিজুর রহমান রানা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সেই চিরাচরিত তত্ত্বটি মনে করিয়ে দেন— ‘House belongs to the opposition’ (সদন বিরোধীদের জন্য)। স্পিকারের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রধান আর্জি ছিল বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংখ্যার বিচারে যেন বিরোধীদের কণ্ঠস্বর চেপে ধরা না হয়। সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য বিরোধীদের পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দিতে হবে।
সংসদীয় রাজনীতিতে স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা বোঝাতে তিনি দুই কিংবদন্তির উদাহরণ টানেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার, যাঁর নাম সারা ভারতে শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হয়। হাসিম আব্দুল হালিম এই বিধানসভায় টানা ২৯ বছর স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, যাঁকে সব দলই নিরপেক্ষতার প্রতীক মানত।
রানা আশা প্রকাশ করেন, নতুন স্পিকারও যেন দলমতনির্বিশেষে একজন ‘অভিভাবকের’ মতো কাজ করেন।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে বাম বিধায়ক বলেন, গত ১৫ বছরে বিধানসভার গরিমা ধূলিসাৎ করা হয়েছে। বিরোধী বিধায়কদের ওপর আক্রমণ এবং স্পেস না দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা যেন নতুন সরকারের আমলে না ফিরে আসে। তাঁর কথায়, “আমরা দেখেছি এই বিধানসভাতেই সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”