নিজস্ব প্রতিনিধি, লালবাগ:
দেবীপক্ষের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক লালবাগে এক পুজো মণ্ডপে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। রবিবার গভীর রাতে লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটির মণ্ডপে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয় এবং বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। তবে পুজোর প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া মণ্ডপে এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত নাশকতা বলেই দাবি করেছে পুজো কমিটি।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটি ঘিরে বাড়তি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে কারণ, আগামী ১৪ অক্টোবর (চতুর্থীর দিন) এই বুধাসপাড়া সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে লালবাগে আসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই আবহে রবিবারের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপানউতোর।
মণ্ডপে আগুন লাগার নেপথ্যে স্পষ্ট ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন বুধাসপাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদিকা নয়না দাস মণ্ডল। গভীর রাতে আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন:
“এই ঘটনা ঘটার পর থেকে আমরা প্রত্যেকে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা কিছুক্ষণ আগেই পুজোর চাঁদা তুলে যে যার বাড়ি ফিরেছিলাম। সবাই যখন যে যার মতো রাতের খাওয়া-দাওয়া করছিল, তখনই আচমকা খবর আসে মণ্ডপে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে আমরা যে যে অবস্থায় ছিলাম, মণ্ডপ বাঁচাতে ছুটে এসেছি। আমাদের স্পষ্ট ধারণা, এটা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। অনেকেই চাইছে না এখানে এত বড় পুজো হোক কিংবা খোদ মুখ্যমন্ত্রী এসে এই পুজোর উদ্বোধন করুন। সেই আক্রোশ থেকেই কেউ বা কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এসে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমরা আশা করছি পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের মুখোশ খুলে দেবে।”
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।