মৃতদের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ যোগীর
নিউজ ফ্রন্ট, দিল্লি | ১৪ মে, ২০২৬
উত্তর প্রদেশে কালবৈশাখী ঝড়, প্রবল বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের যুগপৎ তাণ্ডবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুমিছিল দেখল দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রয়াগরাজে। জেলায় আলাদা আলাদা ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত ৫ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে ভদোহীতে ১৫ জনের মৃত্যু। মির্জাপুরে ১০ জনের মৃত্যু। বাদায়ুতে ৫ জনের মৃত্যু এবং বেরেলি: ৪ জনের মৃত্যু।
প্রবল ঝড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় যান চলাচল থমকে গেছে। শিলাবৃষ্টি ও অকাল বর্ষণের ফলে কৃষকদের কয়েক হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, যা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি উদ্ধারকাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন মৃতদের পরিবারকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ ও সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি দপ্তরকে দ্রুত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো যায়।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর প্রদেশের কিছু অংশে ফের ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং অযথা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।