নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: স্বাধীন চলচ্চিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির আঙিনায় এক অনন্য পালক যোগ করল চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্রেষ্ঠা গাঙ্গুলির পরিচালিত হিন্দি শর্ট ফিল্ম ‘মেমোয়ার’ (MEMOIRE)। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে (Competition Section) অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ছবিটি। এই অর্জনের অংশ হিসেবে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ঋচা শর্মাকে।
উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটি প্রদর্শিত হয় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে। ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের বিশিষ্ট শিল্পী, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও সমাজের গণ্যমান্য অতিথিরা। নন্দনে প্রদর্শনীর আগে ছবিটি ‘Alliance Française du Bengale’-এর বিশেষ ৩৬টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী পর্বেও জায়গা করে নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

প্রথম প্রেম ও নস্টালজিয়ার সমীকরণ: ছবির গল্প
পরিচালক শ্রেষ্ঠা গাঙ্গুলির নিপুণ নির্দেশনায় তৈরি ‘মেমোয়ার’ মূলত প্রথম প্রেম, স্মৃতির কোলাজ এবং জীবনের নিয়মে অতীতকে বিদায় জানানোর এক ভীষণ কোমল ও আবেগঘন গল্প। ছবির আখ্যানভাগ গড়ে উঠেছে মধুরা নামের এক নারীকে কেন্দ্র করে, যে দীর্ঘ বহু বছর পর ফিরে আসে নিজের চেনা শহরে। পুরনো শহরের চিরপরিচিত অলিগলি, ক্যাফে এবং শৈশবের চত্বরগুলো ছুঁয়ে যেতেই তার মনে একে একে ভেসে ওঠে প্রথম প্রেমের স্মৃতি। তরুণ বয়সে তার পরিচয় হয়েছিল অর্ধেক-ফরাসি যুবক লুইয়ের সাথে।
তাদের সেই সম্পর্কটি সময়ের হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী না হলেও অনুভূতির নিরিখে ছিল ভীষণ গভীর। বহু বছর পর অপ্রত্যাশিত এক মুহূর্তে যখন তাদের পুনরায় দেখা হয়, সেই পুনর্মিলন এক লহমায় ফিরিয়ে আনে পুরনো উষ্ণতা, অমলিন হাসি আর তীব্র নস্টালজিয়া। কিন্তু এই স্মৃতির সরণি বেয়ে হাঁটতে হাঁটতেই মধুরা জীবনের এক বড় সত্য উপলব্ধি করে—সে আসলে লুইকে আঁকড়ে ধরে রাখেনি, বরং লুইয়ের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোতে নিজের যে সতেজ ও সুন্দর রূপটি ছিল, তাকেই এতদিন মনের মণিকোঠায় বয়ে বেড়াচ্ছিল।

সম্পর্কের দর্শন ও ভবিষ্যৎ বার্তা
মধুরার এই আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে ‘মেমোয়ার’ তুলে ধরেছে জীবনের এক শাশ্বত দর্শন—সব সম্পর্কের হয়তো সামাজিক পরিণতি বা ভবিষ্যৎ থাকে না, কিন্তু কিছু স্মৃতি আজীবন মনের ভেতরে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। অতীতকে অস্বীকার না করে ভালোবেসে গ্রহণ করা, ফেলে আসা ভালো মুহূর্তগুলোর মর্যাদা দেওয়া এবং সেখান থেকেই সাহসের সাথে সামনের জীবনে এগিয়ে যাওয়াই এই ছবির মূল বার্তা।
ইতিমধ্যেই ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry of Information and Broadcasting) কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্র উৎসবে ছবির এই স্বীকৃতি ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন বাংলা ও জাতীয় স্তরের স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে নিঃসন্দেহে এক বড় অনুপ্রেরণা।