বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
তৃণমূল স্তরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB), কলকাতার উদ্যোগে ‘বার্তালাপ’ নামে এক সাংবাদিক কর্মশিবিরের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পিআইবি ও সিবিসির পূর্বাঞ্চলীয় মহানির্দেশক টি. ভি. কে. রেড্ডি।

তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় জোর
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টি. ভি. কে. রেড্ডি তৃণমূল স্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘বার্তালাপ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে প্রামাণিক ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।
সরকারি প্রকল্পগুলি বিভিন্ন জেলায় কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, কতটা অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন এলাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে বেশি—এই সমস্ত তথ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের কর্মশিবির আয়োজন করা হয় বলে জানান পিআইবি কর্তৃপক্ষ।
টি. ভি. কে. রেড্ডি Press and Registration of Periodicals Act, 2023 এবং প্রেস সেবা পোর্টাল নিয়েও আলোচনা করেন। সংবাদমাধ্যমকে সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পিআইবির ওয়েবসাইট ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

আয়ুষ্মান ভারত থেকে স্বচ্ছ ভারত—একাধিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা
কর্মশিবিরে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা, Direct Benefit Transfer (DBT), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা এবং অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ তথ্যভিত্তিক ও প্রামাণিক সংবাদ পরিবেশনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের একটি পর্বে ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনও করা হয়।

স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
মুর্শিদাবাদের চিফ মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ ড. সন্দীপ সান্যাল সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া, ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচি, যক্ষ্মা নির্মূলের উদ্যোগ, ABHA ID এবং ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড নিয়েও আলোচনা করেন।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও DBT নিয়ে আলোচনা
মুর্শিদাবাদ জেলার লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার তথা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ফয়জল মামুদ প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা এবং সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মুর্শিদাবাদে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগের ভূমিকা এবং নারী-সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা (PMJJBY) নিয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু ও মানব পাচার নিয়েও সচেতনতা
কর্মশিবিরে শিশু ও মানব পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। CINI-এর সহকারী নির্দেশক জয়ন্ত চৌধুরী মিশন বাৎসল্য, মিশন LiFE এবং জল জীবন মিশন-সহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। CINI-এর ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রাজনীতা মুখার্জি শিশু ও মানব পাচারের ঝুঁকি, তার প্রভাব এবং সম্ভাব্য পাচারের ঘটনা সামনে এলে কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সচেতন করেন। অরক্ষিত শিশু ও ব্যক্তিদের সুরক্ষায় সময়মতো তথ্য আদানপ্রদান, জনসচেতনতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম ও পিআইবির সমন্বয়ের আহ্বান
পিআইবি কলকাতার সহকারী নির্দেশক শ্রীজাতা সাহা সাহু প্রামাণিক ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারে পিআইবির ভূমিকা তুলে ধরেন। সরকারি সংবাদ, তথ্য ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস কীভাবে সাংবাদিকদের রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
তিনি পিআইবি ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিনভর আয়োজিত ‘বার্তালাপ’ কর্মশিবিরে সরকারি আধিকারিক, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং জেলার তৃণমূল স্তরের সাংবাদিকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান সাংবাদিকরা। ফলে সরকারি প্রকল্পের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।