লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা NIA-র

নয়াদিল্লি, ১৪ মে ২০২৬: লালকেল্লা এলাকায় ভয়াবহ কার বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। এই নাশকতামূলক ঘটনায় ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মোট ৭,৫০০ পাতার একটি বিশাল চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে জমা দেওয়া এই নথিতে বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগসূত্র এবং গভীর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করা হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা চত্বরে একটি শক্তিশালী কার বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১১ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের ভার নেয় এনআইএ। দীর্ঘ তদন্তের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে ছিল জঙ্গি সংগঠন আনসার গজনওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH), যারা মূলত আল-কায়দা (AQIS)-এর একটি শাখা হিসেবে ভারতে সক্রিয়।

New Delhi: An accused in the Red Fort blast case, face covered, while being produced at the Patiala House Court, in New Delhi, Saturday, November 29, 2025. Four accused are scheduled to be produced before the court on Saturday in connection with the case. (Photo: IANS)

তদন্তের গভীরতা বোঝাতে এনআইএ চার্জশিটে এক বিশাল প্রমাণের তালিকা পেশ করেছে। ৫৮৮ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ৩৯৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে। ২০০-র বেশি আলামত  আদালতে পেশ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হামলার মূল চক্রী ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা ডক্টর উমর উন নবী। অবাক করার মতো বিষয় হলো, তিনি হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটির একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন। যদিও ওই বিস্ফোরণেই নবীর মৃত্যু হয়।

এনআইএ-র দাবি অনুযায়ী ২০২২ সালে শ্রীনগরে একটি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ‘এজিইউএইচ ইন্টারিম’ নামে সংগঠনটিকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়। জঙ্গিরা “অপারেশন হেভেনলি হিন্দ” নামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারত সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং শরিয়া ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। এই হামলায় TATP নামক অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, যা জঙ্গিরা নিজেরাই তৈরি করেছিল। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে AK-47, ক্রিঙ্কভ রাইফেল এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে আইইডি (IED) হামলার পরিকল্পনাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এই মামলার তদন্ত কেবল দিল্লিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এনআইএ জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং দিল্লি-এনসিআর জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে এই জঙ্গি মডিউলটির নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ধৃত ১০ জন অভিযুক্তই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় আঘাত হানার পরিকল্পনা করছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *