আব্দুল হালিম, নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর:
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের রাজনীতি, ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা এবং বিচারাধীন ভোটারদের অধিকার ইস্যুতে সরব হল সিপিআই(এম)। শুক্রবার বহরমপুরে দলের সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা।
“শান্তি রক্ষায় সব মানুষকে একজোট হতে হবে”
সেলিম বলেন, “যাঁরা বামপন্থীদের ভোট দেননি, যাঁরা তৃণমূল বা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাঁদেরও এককাট্টা হতে হবে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে। আমরা কোনওভাবেই পশ্চিমবঙ্গকে আসামের মতো পরিস্থিতিতে যেতে দেব না।” তাঁর দাবি, ভোটের রাজনীতিতে বিভাজনের আগুন জ্বালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হচ্ছে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর সেই বিভেদের রাজনীতি ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে।
মুর্শিদাবাদের প্রসঙ্গ টানলেন সেলিম
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, “মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, জঙ্গিপুরে আমরা এর ফল দেখেছি। দেশজুড়েও একই ছবি। আসাম, মণিপুরে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকলেও শান্তি বজায় থাকেনি।”
তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ শান্তি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং আইনের শাসনের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন। সেই কারণেই বামপন্থীরা সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং বিভাজনের রাজনীতি রুখতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
‘২৭ লক্ষ ভোটার বঞ্চিত’ অভিযোগ
ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, “২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটের স্বার্থে তাঁদের রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারাধীন ভোটারদের দায়িত্ব নিতে বিচার ব্যবস্থাও অনীহা দেখাচ্ছে। এই ইস্যুতে বামপন্থীরা ফের রাস্তায় নামবে এবং আদালতেও লড়াই চালাবে বলে জানান তিনি।
“শুধু সংখ্যালঘু নয়, আতঙ্কে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষও”
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেন, “শুধু সংখ্যালঘু মানুষ নন, ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিপ্রিয় মানুষও আতঙ্কে রয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না।” তিনি মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ারও আবেদন জানান।
বামেদের ভূমিকা ও বিজেপিকে কটাক্ষ
সেলিমের বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপির বিকল্প হিসেবে বামপন্থীরা মানুষের সামনে নিজেদের তুলে ধরেছিল। বৃহত্তর বাম ঐক্যের মাধ্যমে আইএসএফ-সহ অন্যান্য শক্তিকে নিয়ে লড়াই করা হয়েছিল।
তবে বিজেপির বিপুল আর্থিক ও সাংগঠনিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,
“হেলিকপ্টার, বিপুল টাকা, কেন্দ্রীয় শক্তি নিয়ে নির্বাচনে নেমেছিল বিজেপি। মানুষ ভেবেছিল এদের দ্বারা কিছু হবে। এখন দেখা যাবে ছ’মাসে শূন্যপদ পূরণ হয় কি না, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হয় কি না, DA মেলে কি না।”
বুলডোজার রাজনীতির বিরোধিতা
রাজ্যে মূর্তি ভাঙা এবং বুলডোজার রাজনীতি নিয়েও সরব হন সেলিম।
তিনি বলেন, “আমরা লেনিন মূর্তি ভাঙার বিরুদ্ধে মিছিল করেছি। যেখানে হকার উচ্ছেদ হয়েছে, দোকান ভাঙা হয়েছে, সেই সব জায়গাতেও প্রতিবাদ হয়েছে। বাংলায় বুলডোজার রাজনীতি আমদানি করতে দেওয়া হবে না।”
তাঁর অভিযোগ, কিছু বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী বুলডোজার নিয়ে মিছিল করেছে, যা “ক্ষমতা প্রদর্শনের বিকৃত মানসিকতা” বলে কটাক্ষ করেন তিনি।