নিউজ ফ্রন্ট ডিজিটাল ডেস্ক, ২রা মে: ভারত মহাসাগর—বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী। আর এই মহাসাগরের বুকেই ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু ইন্দিরা পয়েন্টের কাছে অবস্থিত ‘গ্রেট নিকোবর’ দ্বীপটি এবার এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে একটি বিশ্বমানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক মেগা প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্র। নীতি আয়োগের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌ-মানচিত্রে ভারত নিজের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে চলেছে।

এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক স্তরের একটি কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল (ICTT) নির্মাণ করা। এর পাশাপাশি এখানে গড়ে তোলা হবে ঘণ্টায় ৪০০০ যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ৪৫০ মেগাওয়াটের গ্যাস ও সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। একটি অত্যাধুনিক পরিকল্পিত শহর।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে মোট তিনটি পর্যায়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
১. প্রথম পর্যায় (২০২৫–২০৩৫): ৭২.১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
২. দ্বিতীয় পর্যায় (২০৩৬–২০৪১): ৪৫.২৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সম্প্রসারণ চলবে।
৩. তৃতীয় পর্যায় (২০৪২–২০৪৭): ৪৮.৭১ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শেষ হবে।
কেন এই মেগা প্রকল্প?
বর্তমানে ভারতের বন্দরগুলোতে বড় জাহাজ নোঙর করার মতো গভীর জলের বার্থের (Deep Water Berths) অভাব রয়েছে। ফলে অধিকাংশ পণ্যবাহী জাহাজকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বা সিঙ্গাপুর বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে ভারত যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, তেমনই কৌশলগত দিক থেকেও পিছিয়ে পড়তে হয়। অন্যদিকে, মায়ানমার, চীন ও শ্রীলঙ্কা এই বাণিজ্যের দখল নিতে ইতিমধ্যেই নিজেদের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। নিকোবরের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এবার সেই ঘাটতি পূরণ করতে চাইছে দিল্লি। ১৪.২ মিলিয়ন TEU ক্ষমতার এই টার্মিনাল চালু হলে ভারতের আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের জন্য বনাঞ্চলের যে ক্ষতি হবে, তার পরিপূরক হিসেবে হরিয়ানা রাজ্যে ৯৭.৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হবে। স্থানীয় শম্পেন (Shompen) এবং নিকোবরি উপজাতিদের জীবনযাত্রায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিজেদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা হবে না, উল্টে উপজাতি সংরক্ষিত এলাকার (Tribal Reserve Area) পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।