নিউজ ফ্রন্ট ডিজিটাল, মুর্শিদাবাদ: দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে বঙ্গে। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার অস্তিত্ব রক্ষায় বাম-কংগ্রেসের কাছে ‘বৃহত্তর জোট’-এর আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রবিবার মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে সেই ক্ষতে কার্যত নুনের ছিটে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মমতার ঐক্য বার্তার প্রেক্ষিতে সাফ জানিয়ে দিলেন— আগে রাহুল গান্ধীকে সর্বভারতীয় স্তরে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে, তবেই জোট নিয়ে আলোচনার পথে হাঁটবে কংগ্রেস।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল কার্যত বিপর্যয়ের সমতুল্য। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ঘাসফুল শিবিরের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৮০-তে। এই পরিস্থিতিতে শনিবারই বাম ও কংগ্রেসের সমর্থন চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির জয়জয়কারের মুখে দাঁড়িয়ে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্য গড়ে তোলাই এখন তৃণমূল নেত্রীর প্রধান লক্ষ্য।
“হিংসার পরিণাম ভোগ করতে হবে”: অধীরের কড়া আক্রমণ
অধীর চৌধুরী মমতার এই আর্জিকে ‘হতাশা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলায় গত ১৫ বছর ধরে যে পরিমাণ হিংসা হয়েছে, আজ তার ফল তাঁকে ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বাংলায় কংগ্রেস এবং বামেদের মতো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। আজ পরিস্থিতি উল্টে গেছে, তিনি নিজেই এখন খাদের কিনারায়।”
জোটের শর্ত: রাহুল গান্ধীকে মানতেই হবে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের একতার ডাক প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী এক বড় শর্ত সামনে রেখেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন তৃণমূলকে প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে রাহুল গান্ধীই সর্বভারতীয় জোটের একমাত্র নেতা। জাতীয় স্তরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে তাঁর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে মমতাকে। এই শর্ত পূরণ হলে তবেই রাজ্যে কোনো ধরণের সমর্থনের কথা বিবেচনা করবে কংগ্রেস হাইকমান্ড।
ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনীতির সমালোচনা করে অধীর চৌধুরী আরও বলেন যে, বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক সময় মমতা নকশালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ,
“কাজ হাসিল হয়ে যাওয়ার পর কিষানজিকে হত্যা করা হয়েছিল। আজ তিনি বিপদে পড়ে সবাইকে ডাকছেন। মনে রাখা দরকার, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে জমি তৈরি করে দিয়েছেন মমতাই।”
“শান্তিনিকেতন এখন মিউজিয়াম!”— অভিষেকের বাড়ি নিয়ে কটাক্ষ
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিন ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি অধীর। হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এক সময় যে বাড়ি কঠোর নিরাপত্তায় মোড়া থাকত, আজ মানুষ তা কৌতূহলবশত দেখতে যাচ্ছেন। ‘শান্তিনিকেতন’ এখন কার্যত মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িটিও একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
শেষে বিজেপি সরকারকে উদ্দেশ্য করেও কড়া বার্তা দেন অধীর চৌধুরী। তিনি সাফ জানান, তৃণমূল সরকারকে যে মানুষ আজ প্রত্যাখ্যান করেছে, একই পরিণাম বিজেপিরও হতে পারে। যদি বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলার মানুষ তাঁদেরও গদিচ্যুত করতে দ্বিধা করবে না।