নিজস্ব প্রতিবেদন, রঘুনাথগঞ্জ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে শেষরক্ষা হলো না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ও রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশের যৌথ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হলেন এক গৃহবধূ। ধৃত মহিলার নাম মানজেরা বিবি। রবিবার তাঁকে রঘুনাথগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মানজেরা বিবির বাপের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জের নাড়ু খাকি চর এলাকায়। খুব অল্প বয়সেই বাংলাদেশের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি ওপার বাংলাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং স্বামীর সঙ্গে সংসার পাতেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি কন্যা সন্তান এবং একটি ৬ বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে বাংলাদেশে সুখে-শান্তিতেই কাটছিল তাঁর সংসার।
তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ডালিম নামের এক যুবকের সঙ্গে মানজেরার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথন থেকে সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার তীব্র তাগিদে বাংলাদেশে স্বামী ও চার নাবালক সন্তানকে ফেলে রেখে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন মানজেরা।
পরিকল্পনামাফিক রবিবার বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে মুর্শিদাবাদে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় রঘুনাথগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাহুরা ঘাট এলাকায় টহলরত বিএসএফ জওয়ানরা তাঁকে সন্দেহভাজনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিএসএফ বিষয়টি রঘুনাথগঞ্জ থানায় জানায় এবং ধৃত মহিলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ মানজেরা বিবিকে নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। কোনো আন্তর্জাতিক পাচারকারী বা সীমান্ত পারাপারকারী দালাল চক্রের মাধ্যমে তিনি কাঁটাতার পেরিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সাথে ওই ভারতীয় যুবকের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।