ভোটের মুখে হাওড়ায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি

ভাঙড়ে বোমা উদ্ধার ও শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং রাজ্য পুলিশের তৎপরতার নির্দেশের মাঝেই ফের উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হাওড়া ও ভাঙড়ের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

হাওড়ার পিলখানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী তরুণ প্রোমোটার শফিক খান-কে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া সেই হাড়হিম করা দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত হারুন খান খুব কাছ থেকে শফিককে গুলি করে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে পুরনো কোনো ব্যবসায়িক বিবাদ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, অভিযুক্ত হারুন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, আর সেই প্রশ্রয়েই এই সাহস পেয়েছে সে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। যেখানে নতুন থানা উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছিল, সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ড্রাম ভর্তি বোমার মশলা ও তাজা বোমা। এই ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
গত আট দিন আগে ভাঙড়ে একটি ড্রাম বিস্ফোরণে নয় বছরের এক বালক গুরুতর জখম হয়েছিল। বুধবার সকালে হাসপাতালে লড়াই শেষ হয় তার। এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
রাজ্যের এই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি কড়া ভাষায় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন
“এই বাংলা যে আজ বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। তৃণমূলের জমানায় এলাকায় এলাকায় খুনি, গুন্ডা আর অপরাধী তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ দিয়ে বা বাইরে থেকে লোক পাঠিয়ে এই সন্ত্রাস বন্ধ হবে না, এর জন্য আরও কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়েই পশ্চিমবঙ্গ আজ খুন, লুট আর দুর্নীতির নিত্যনৈমিত্তিক চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *