কেরল হলো ‘কেরলম’, বাংলা কেন ব্রাত্য? নাম পরিবর্তনের বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মমতার

নয়াদিল্লি/কলকাতা, ২৪ ফেব্রুয়ারি: অবশেষে কেন্দ্রের সিলমোহর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘কেরল’ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেরলের প্রস্তাব দ্রুত মেনে নেওয়া হলেও বাংলার নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আটকে রাখা হয়েছে।

সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগোবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ‘কেরল (নাম পরিবর্তন) বিল, ২০২৬’ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে কেরল বিধানসভায় মতামতের জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফেরার পর বিলটি সংসদে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুন মাসে কেরল বিধানসভা সর্বসম্মতিক্রমে রাজ্যটির নাম মালয়ালম ভাষার সাথে সঙ্গতি রেখে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব পাস করেছিল।

কেরলের এই সাফল্যে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনাকেই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ওরা পেয়ে গেল তার কারণ আজ কেরলে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের একটা জোট গড়ে উঠছে। অলিখিত জোট নয়, এটা এখন লিখিত জোটই হয়ে গেল। আজকের ঘটনা তার প্রমাণ।”

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ রাখার প্রস্তাব বিধানসভায় দীর্ঘদিন পাস হয়ে পড়ে থাকলেও কেন্দ্র কেন তাতে সায় দিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, “এক দিন আপনারা (পড়ুন বিজেপি সরকার) চলে যাবেন। বাংলার নামটা আমরা আদায় করে নিয়ে আসবই।”

নবান্ন সূত্রে খবর, ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে ‘West Bengal’ এর ‘W’ একদম শেষে থাকায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শুরু করে উন্নয়নের বরাদ্দ- সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রাজ্যের দাবি, নাম বদলে ‘বাংলা’ বা ‘বঙ্গ’ করা হলে এই বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু কেরলের প্রস্তাব গৃহীত হলেও বাংলার প্রস্তাব ঝুলে থাকায় নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *