নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় জমা পড়া প্রায় ৮০ লক্ষ আবেদনের পাহাড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এই অবস্থায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কাজ দ্রুত শেষ করতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টকে অনুমতি দিয়েছে যাতে তারা এই কাজের জন্য ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে আসতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, বর্তমানে এই কাজে নিযুক্ত ২৫০ জন জেলা বিচারপতির পক্ষে এত বিশাল পরিমাণ আবেদন যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে কাজ চললে এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে। কিন্তু ভোটের আগে হাতে সময় অত্যন্ত কম। সেই গুরুত্ব অনুধাবন করেই সুপ্রিম কোর্ট সিভিল জজদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই রাজ্য থেকে সমমর্যাদার বিচারকদের মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছে।
ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা বিচারকদের যাতায়াত ও কাজের সমস্ত খরচ বহন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (EC)। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে আদালত। যদি ২৮ তারিখের মধ্যে সমস্ত যাচাইকরণ শেষ না হয়, তবে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে সময়ে পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করা যাবে।
সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা (Plenary Powers) ব্যবহার করে আদালত জানিয়েছে, যাচাইকরণে যোগ্য বলে বিবেচিত ভোটারদের নাম সাপ্লিমেন্টারি রোলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তাঁদের মূল তালিকারই অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আদালত। সেই বিরোধের জট কাটাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই কর্মরত এবং প্রাক্তন জেলা বিচারপতিদের এই প্রক্রিয়ায় সামিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপের ফলে ভোটার তালিকায় তথ্যগত ত্রুটি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র সমস্যা দ্রুত মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।