পঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে নতুন সরকারি বাংলোতে উঠেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির সর্বভারতীয় প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল। দুই একর জমিতে গড়ে ওঠা এই বিলাসবহুল বাংলো নিয়ে এখন সরগরম রাজনীতি। বিজেপির অভিযোগ, পঞ্জাব সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কোটা থেকে পাওয়া সরকারি অর্থে কেজরীওয়াল নিজের জন্য “সাততারা শিশমহল” তৈরি করেছেন। অপরদিকে, আপ দাবি করেছে এ সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর:
আবার আলোচনায় অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ‘শিশমহল’। তবে এবার রাজধানী নয়, বিতর্কের কেন্দ্র পঞ্জাবের চণ্ডীগড়। জানা গেছে, আপ প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরীওয়াল সম্প্রতি চণ্ডীগড়ের সেক্টর-২–এর এক সরকারি বাংলোয় উঠেছেন, যা পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় বরাদ্দ। এই নতুন আবাসনটি প্রায় দুই একর জমি জুড়ে তৈরি এবং “সাততারা হোটেলের মতো বিলাসবহুল” বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপি এবং আপেরই একাংশের তরফে এই বাংলোর ছবি প্রকাশ করে তোপ দাগা হয়েছে কেজরীওয়ালের দিকে। আপের রাজ্যসভা সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লিখেছেন, “দিল্লির শিশমহল খালি করার পর এখন কেজরীওয়ালজি পঞ্জাবে আরও চমকপ্রদ শিশমহল বানিয়ে ফেলেছেন। চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২–এর দুই একর জমির উপর গড়া ৭-স্টার সরকারি কোঠি এখন তাঁর দখলে। গতকালই তিনি ওই বাসভবনের সামনে থেকে সরকারি হেলিকপ্টারে চড়ে অম্বালা যান, সেখান থেকে আবার পঞ্জাব সরকারের প্রাইভেট জেটে করে গুজরাতে দলের কাজে যান। পুরো পঞ্জাব সরকার এক ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত।”
অন্যদিকে, দিল্লি বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবের অভিযোগ, “দিল্লির জনগণের টাকায় বিলাসিতা করেছেন কেজরীওয়াল। এখন পঞ্জাবের অর্থে নতুন শিশমহল বানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা নিজের বিলাসবহুল জীবনে খরচ করছেন।”
বিজেপি আরও দাবি করেছে, চণ্ডীগড়ে কেজরীওয়ালের জন্য নির্মিত এই কোঠিটি শুধু মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন নয়, বরং এক “রিসর্টের মতো অবকাঠামো”। তাঁদের শেয়ার করা উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, বাংলোটিতে একাধিক লন, আলাদা অতিথিশালা, সুইমিং পুল, ও উন্নত নিরাপত্তা অবকাঠামো রয়েছে। বিজেপি কটাক্ষ করে তাঁকে “পঞ্জাবের সুপার সিএম” বলে উল্লেখ করেছে।
এই অভিযোগে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আপ নেতারা বলেন, “কেজরীওয়াল কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি তৈরি করেননি। তাঁকে পঞ্জাব সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে কোনও বেআইনি কিছু নেই। বিজেপি দিল্লি ও পঞ্জাবের ব্যর্থ রাজনীতি ঢাকতে এমন মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।”
দিল্লির রাজনীতিতেও এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেজরীওয়ালের সরকারি বাসভবন ছিল সিভিল লাইনের ৬, ফ্ল্যাগস্টাফ রোডে। ২০২৩ সালে ওই বাসভবন সংস্কারকে কেন্দ্র করেও শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। বিজেপির দাবি ছিল, কেজরীওয়াল সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বাসভবন সংস্কারে, যা পরে “শিশমহল কাণ্ড” নামে পরিচিত হয়।
বর্তমানে দিল্লিতে আপ সরকার না থাকলেও পঞ্জাবে ভগবন্ত মানের নেতৃত্বে দল ক্ষমতায়। বিরোধীদের অভিযোগ, কেজরীওয়াল এখন পঞ্জাবের সরকারকেও নিজের দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
দিল্লির শিশমহল থেকে চণ্ডীগড়ের শিশমহল বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না অরবিন্দ কেজরীওয়ালের। এবার পঞ্জাবের প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনীতির আঙিনা, সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছে মুখ্যমন্ত্রীর আসন কি এখন বিলাসের নতুন কেন্দ্রবিন্দু?