বিস্মিত মেয়র ফিরহাদ— ‘আমি কলকাতায় জন্মেছি। এত বড় হয়েছি।এমন বৃষ্টি দেখিনি’

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া নাগাড়ে বৃষ্টিতে কলকাতা শহর কার্যত বিপর্যস্ত। শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিজের পাড়া চেতলাও রয়েছে। এমন অভূতপূর্ব বৃষ্টি দেখে মেয়র নিজেও বিস্মিত। তিনি জানান, এমন ভয়াবহ বৃষ্টি তার জীবনে তিনি কখনও দেখেননি।

মঙ্গলবার সকালে পুরসভার কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার সময় ফিরহাদ হাকিম বলেন,আমি কলকাতায় জন্মেছি। এত বড় হয়েছি। এমন বৃষ্টি দেখিনি। আজ সেটা দেখলাম।” তিনি জানান, সোমবার রাত থেকে কলকাতায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। মেয়রের কথায়, “এটি একটি ভয়াবহ বৃষ্টি, যা এর আগে আমরা কখনও দেখিনি।”

তবে এই পরিস্থিতির জন্য তিনি অনেকটা অপারগ বলেও বোঝাতে চেয়েছেন। তার যুক্তি, গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শহরের নিকাশি খালগুলোও কানায় কানায় পূর্ণ। ফলে পুরসভা থেকে জল খালে ফেললেও তা আবার ব্যাক ফ্লো হয়ে শহরে ফিরে আসছে। মেয়র জানান, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ গঙ্গায় জোয়ার আসার কথা রয়েছে, এবং সেই জোয়ারের জল নেমে গেলে সন্ধ্যার দিকে শহরের জমা জল নদীতে ফেলা যাবে।

আমি কলকাতায় জন্মেছি, এত বড় হয়েছি, এমন বৃষ্টি কোনওদিন দেখিনি। সোমবার রাত থেকে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এটি ভয়াবহ বৃষ্টি, যা শহর কখনও দেখেনি।”ফিরহাদ হাকিম

মেয়র আরও জানান যে, কলকাতার পাম্পিং স্টেশনগুলির জল নিকাশি ক্ষমতা সীমিত। পাম্পিং স্টেশনগুলোর পাইপ দিয়ে ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটারের বেশি জল বের করা সম্ভব নয়, যেখানে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তাই জল নামতে স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগবে। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “প্রকৃতির হাতে আমরা সবাই একেবারে অবশ। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে পারি না।”

এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মেয়রের প্রধান বার্তা ছিল, “আজকের দিনটা দয়া করে বাড়ি থেকে বেরোবেন না। অনেকে বেরিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন।” যদিও তিনি দাবি করেন, পুরসভার বাতিগুলি আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং নিহতেরা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকতে পারেন।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত গড়িয়ায় ৩৩২ মিলিমিটার এবং চেতলায় ২৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত চার দশকে সেপ্টেম্বরে এমন বৃষ্টিপাত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীকে সতর্ক থাকতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র।

শহরবাসীকে সতর্ক করে মেয়র বলেন,
আজ দয়া করে বাড়ি থেকে বেরোবেন না। অনেকেই বেরিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। প্রকৃতির সঙ্গে আমরা লড়াই করতে পারি না। তবে পুরসভা কাজ করছে। আশা করি, আজ রাতের মধ্যে জল নেমে যাবে।”

এক রাতের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা আবারও প্রশ্ন তুলল নগরীর নিকাশি ব্যবস্থা ও জরুরি পরিষেবার উপর। মুখ্যমন্ত্রী যেমন সিইএসসি-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন, তেমনই মেয়র ফিরহাদ হাকিমও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে কলকাতা। তবে বৃষ্টির প্রকোপ আর না বাড়লে আজ রাতের মধ্যে জল নামবে— এই আশায় বুক বাঁধছেন শহরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *