প্রতিরোধ, প্রয়াস এবং পুনর্গঠনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ঢাকায় জাতীয় সম্মেলন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। আজ সুহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে দলটি ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে একটি জাতীয় সমাবেশ করছে, যার মূল লক্ষ্য—পর্যায়ক্রমিক ভোট নয়, বরং অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি।
নিউজ ফ্রন্ট, ১৯ জুলাই:
ঢাকার সুহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রথম জাতীয় সমাবেশ। এই সমাবেশের মাধ্যমে দলটি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নিজেদের রাজনীতির ময়দানে পুনরুজ্জীবনের বার্তা দিতে চলেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই সমাবেশে উপস্থিত হতে পারে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ সমর্থক। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের আগমন সহজ করতে ব্যাপক লজিস্টিক্যাল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সমর্থকদের ঢাকায় আনতে জামায়াত প্রায় ১০,০০০ বাস ও ২,০০০ মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে চারটি বিশেষ ট্রেন চালু করেছে।
সমাবেশে যে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হবে, তার অন্যতম হল অনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, রাজবন্দিদের মুক্তি, এবং ইসলামি রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং জামায়াতে ইসলামীকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরে ১৯৭৬ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে দলটি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শুরু করে। তবে ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট দলটির নির্বাচন কমিশন রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। আবার ২০২৪ সালের আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাহার করে।
এই সমাবেশকে ঘিরে দেশজুড়ে প্রশাসনিক নজরদারি তীব্র হয়েছে, যদিও জামায়াত নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করছেন।
এই সমাবেশ শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বৃহৎ সমাবেশের মধ্য দিয়ে জামায়াত আবারো জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে।