বিবস্ত্র করে মহিলার আপত্তিকর ছবি তুলে ভাইরাল! মেমারিতে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত যুবক

নিউজ ফ্রন্ট, মেমারি:

দোকানে যাওয়ার পথে এক মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর, জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা এবং সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগে বিকাশ কোঁড়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ। বুধবার অভিযুক্তকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় মেমারি থানা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা বাড়ির কাছেই একটি দোকানে জিনিস কিনতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পথে বিকাশ কোঁড়া ও তার কয়েকজন সঙ্গী মহিলার পথ আটকায়। তাকে জোর করে মারধর করতে করতে টেনে-হিঁচড়ে পাড়ারই এক বাসিন্দার বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে মহিলার ওপর চরম লাঞ্ছনা চালানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা জোর করে তাকে বিবস্ত্র করে এবং ওই বাড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় বসিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে নেয়। নির্যাতিতার দাবি, তিনি বাধা দিলেও তাকে শারীরিক হেনস্থা করা হয়। এখানেই শেষ নয়, অপরাধীরা সেই ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় কয়েকজনের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়।

ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও সাহসিকতার পরিচয় দেন ওই মহিলা। তিনি মঙ্গলবার মেমারি থানায় গিয়ে বিকাশ কোঁড়া ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তৎপর হয় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত বিকাশ কোঁড়াকে গ্রেফতার করা হয়।

গতকাল ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের কঠোর সাজার আবেদন জানানো হয়। বিচারক সব দিক বিবেচনা করে বিকাশকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে যে মোবাইলটি ব্যবহার করে ছবি তোলা এবং ভাইরাল করা হয়েছিল, সেটিও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় আর কেউ মদত দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রকাশ্য এলাকায় এক মহিলার শ্লীলতাহানি ও সাইবার অপরাধের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *