নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ১৬ ডিসেম্বর:
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও সৃজনশীল প্রচার কৌশলের সাক্ষী থাকল কলকাতার নজরুল মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ১৫ বছরের শাসনকালের সাফল্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রকাশ করল তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। বুধবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে প্রায় ৩,৫০০-এর বেশি মহিলা জনপ্রতিনিধি ও নেত্রী উপস্থিত ছিলেন।
কী এই ‘উন্নয়নের পাঁচালি’?
বাংলার লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘পাঁচালি’। আবহমানকাল ধরে বাংলার মহিলারাই ঘরে ঘরে মঙ্গলকামনায় পাঁচালি পাঠ করে আসছেন। সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক রাজনীতিকে মিলিয়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। এটি মূলত একটি পুস্তিকা ও সঙ্গীত, যা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের গল্প তুলে ধরবে।
বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও বিধায়ক অদিতি মুন্সীর কণ্ঠে গাওয়া বিশেষ এই ‘পাঁচালি’ এদিন নজরুল মঞ্চে উপস্থিত মহিলাদের আপ্লুত করে তোলে। গানের মাধ্যমেই দিদির নেতৃত্বে বাংলার ‘নবজাগরণের’ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন তৃণমূলের মহিলা সাংসদ, বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পৌরসভার কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ব্লক ও অঞ্চল স্তরের মহিলা সভানেত্রীরা।

তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কেবল নজরুল মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী এক মাস ধরে গোটা রাজ্যে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পাড়ায় মাদুর পেতে মহিলারা একত্রিত হবেন। মহিলা নেত্রীরা সাধারণ মহিলাদের সামনে এই ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পাঠ করে শোনাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও কর্মসূচি কীভাবে আমজনতার জীবনে বদল এনেছে, তার খতিয়ান সংবলিত পুস্তিকা বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আগত এক মহিলা প্রতিনিধি আবেগের সঙ্গে জানান, “গত ১৫ বছর ধরে দিদি আমাদের সম্মান আর কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে কন্যাশ্রী—প্রতিটি প্রকল্প আমাদের স্বাবলম্বী করেছে। এই পাঁচালি আসলে আমাদের নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর গল্প।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের আবেগকে স্পর্শ করতে এবং তৃণমূল সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলিকে লোকশিল্পের মোড়কে তুলে ধরতে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। তৃণমূলের দাবি, বাংলার লক্ষ লক্ষ নারী এখন প্রস্তুত রাজ্যের প্রতিটি কোণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাফল্যের বার্তা পৌঁছে দিতে।