নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ, ২৮ জুন: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড – এই চিরন্তন সত্যকে স্বীকৃতি দিতে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মেধা কখনও চাপা থাকে না, উপযুক্ত স্বীকৃতি পেলে তা শুধু আলো ছড়ায় না, অনুপ্রেরণাও জোগায় গোটা সমাজকে। সেই বিশ্বাসকে দৃঢ় করতেই আয়োজিত হল ‘মেধায় মুর্শিদাবাদ ২০২৫’ – যেখানে জেলার কৃতী শিক্ষার্থীরা পেল তাদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের উদ্যোগে আজ শনিবার রবীন্দ্র নজরুল সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হল ‘মেধায় মুর্শিদাবাদ ২০২৫’ শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৮৮ জন ছাত্রছাত্রীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা, আলিম, ফাজিল, সিবিএসই এবং আইসিএসই বোর্ডের ২০২৫ সালের পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মানপত্র, স্মারক ও উপহারসামগ্রী। শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে কৃতিত্ব অর্জনকারীরাও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলা শাসক সামসুর রহমান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুজাতা বাগচি ব্যানার্জি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কবৃন্দ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষগণ এবং শিক্ষাবিদরা।

জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “একটা শিকল অনেক লিংকে তৈরি হয়। একটি উইক লিংক থাকলেই সেই শিকলটা ভেঙে যাবে। Never to be that weak link! আপনাদের নিয়েই তৈরি হবে দেশের ভবিষ্যৎ। কখনো পিছিয়ে যাবেন না।” তিনি আরও বলেন “ আমরা গর্বিত, ধীরে ধীরে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একাধিক পরীক্ষাতে এই জেলা থেকে সাফল্যের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান।
অতিরিক্ত জেলা শাসক (ZP) সামসুর রহমান জানান, “এই জেলার কৃতী ছেলেমেয়েরা দেশের নানা প্রান্তে উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখেছে, অথচ তাদের সাফল্য অনেক সময়ই প্রচারে আসে না। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ তাদের স্বীকৃতি দেওয়ারই প্রচেষ্টা।” মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ চাই এই জেলার সবাই জানুক মুর্শিদাবাদ শিক্ষার উৎকর্ষ হিসেবে উঠে আসবে।
সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা শিক্ষার পাশাপাশি মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা চাই এই জেলা শুধু মেধায় নয়, মানবিকতায়ও এগিয়ে যাক।”
সাংসদ আবু তাহের খান মন্তব্য করেন, “আজ যারা এই মঞ্চে এসেছে তারা সমাজের কাছে আশা। সেই আশা পূরণ করার দায়িত্বও তাদের কাঁধে।”
বিতর্কের সৃষ্টি
প্রশংসার মাঝেও অনুষ্ঠানটি নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের সদস্য কংগ্ররেসের তৌহিদুর রহমান সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে অভিযোগ তোলেন, “এটি কি জেলা পরিষদের অনুষ্ঠান, নাকি ব্যানারবিহীন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সভা?” তিনি আরও দাবি করেন যে জেলা পরিষদের অনেক নির্বাচিত সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, অথচ প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূলের নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

‘মেধায় মুর্শিদাবাদ ২০২৫’ শুধু একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, এটি এক সামাজিক বার্তা – প্রতিটি প্রতিভাই স্বীকৃতির যোগ্য। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কিছুটা বিতর্ক তৈরি করলেও, শিক্ষা ও মেধার স্বীকৃতি প্রদানের এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে জেলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। মেধা ও নিষ্ঠা যে কখনও অবহেলিত হয় না, আজকের এই অনুষ্ঠান তারই প্রমাণ। আশা করা যায়, এই সম্মাননা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।