নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ১৮ জুন: ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আজ আদেশ দিয়েছেন যে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে এই সুপারিশগুলি প্রকাশ করতে হবে।
বিচারপতি সিনহা তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে বলেন, “বেতন কমিশনের সুপারিশ সরকারের কোনও গুপ্ত নথি নয়। এটি সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যই প্রযোজ্য।” আদালত প্রশ্ন তুলে বলেন, “তাহলে এক্ষেত্রে এত গোপনীয়তার কারণ কী?”
এই মন্তব্যে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল এই ষষ্ঠ বেতন কমিশন। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এই কমিশনের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
২০২২ সালে ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার বেতন কমিশনের সুপারিশ জানতে চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু যথাযথ উত্তর না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এই বেতন কমিশনের সুপারিশের জন্য প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা সংশোধনের প্রশ্নটি এই কমিশনের সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় তথ্যের অধিকার আইনের মূল চেতনাকে শক্তিশালী করেছে। সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে আদালতের এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করবে।
এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার আদালতের এই নির্দেশ কতটা দ্রুততার সাথে পালন করে। ১ জুলাইয়ের মধ্যে সুপারিশ প্রকাশিত না হলে আদালতের আরও কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এই রায়ে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছেন, শীঘ্রই তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে স্পষ্টতা পাবেন।