মুর্শিদাবাদে নয়া যুগের সূচনা! শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এক টেবিলে শাসক-বিরোধী বিধায়করা

নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার জোর দিয়েছেন ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর ওপর। তাঁর সেই নির্দেশকে পাথেয় করেই রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত হলো এক বিশেষ বৈঠক। জেলাশাসক আর অর্জুনের নেতৃত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরের নবনির্বাচিত বিধায়করা।

দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর মুর্শিদাবাদের প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বামপন্থী বিধায়করা। জেলাশাসক আর অর্জুন জানান, “আজকের আলোচনা মূলত প্রাথমিক স্তরের। বিধায়করা তাঁদের এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো আমাদের জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাস্তাঘাট মেরামত, সেতু তৈরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন রোধের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা এই ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাব এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।”

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার একাধিক বিধায়ক গঙ্গা-পদ্মা ভাঙন, রাস্তার বেহাল অবস্থা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো, যানজট ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই সব বিধায়ককে নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী বিধায়কদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে জেলার উন্নয়নের জন্য আলোচনা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরোধী-শাসক ভেদাভেদ না রেখে সবাইকে নিয়ে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “গত ৫ বছর বিধায়ক থাকাকালীন কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে বা এমনকি ব্লক অফিসেও আমাদের ডাক থাকতো না। আগে ডিএম অফিস মানেই ছিল তৃণমূলের পার্টি অফিস। আজ সেই সংস্কৃতি বদলেছে। পরিবর্তন হয়েছে দেখেই আজ সব দলের বিধায়করা এক টেবিলে বসতে পেরেছেন। ” তিনি স্বাস্থ্য, রাস্তা ও গঙ্গা-পদ্মা ভাঙনের মতো একাধিক সমস্যা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জেলার উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ভালো দিক। ভবিষ্যতে এই আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।”

জেলার একমাত্র বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রে বিরোধীদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। গত ১৫ বছরে সেই সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছিল। নতুন সরকার যদি সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে তা অবশ্যই স্বাগতযোগ্য।”

নবগ্রামের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সাহা তাঁর এলাকায় একাধিক অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প, দুর্নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা তুলে ধরেন। নবগ্রামের দুর্নীতির বিষয় ছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত হেরিটেজ সাইট কিটেশ্বরী সতীপীঠের উন্নয়ন এবং ডাহাপাড়া রাস্তার সংস্কার নিয়ে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। লিখিত আকারেও তিনি প্রশাসনের হাতে উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দেন।

তবে সব বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস এবং নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক স্তরে বিরোধীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, মুর্শিদাবাদের এই বৈঠক তারই প্রতিফলন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার শচীন মক্কার এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং। উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতেও বিধায়কদের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *