মৃত্যুর দেড় মাস পরও পর্দায় যেন জীবন্ত রাহুল, আবেগে ভাসাল ‘ছবিওয়ালা’
মার্চ মাসে ওড়িশার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান টলিউডের উজ্জ্বল নক্ষত্র রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অকাল প্রয়াণের পর এই প্রথম তাঁর অভিনীত ছবি ‘ছবিওয়ালা’-র বিশেষ প্রদর্শনী হয়ে গেল শহরের এক প্রেক্ষাগৃহে। সিনেমা দেখতে দেখতে কেবল দর্শক নন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত এবং সতীর্থরা।

পরিচালক বাপ্পার এই ছবি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক অসহায় শিল্পীর জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের দলিল। ছবিতে রাহুল অভিনয় করেছেন ‘বিশ্বকর্মা’ চরিত্রে, যে একজন প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার। কিন্তু তাঁর নান্দনিক বোধ সমাজের কাছে উপেক্ষিত। পরিস্থিতি এমন যে, তাঁর ঝুলি জোটে কেবল মৃত মানুষের ছবি তোলার বায়না। চরম অভাবের মধ্যে বিশ্বকর্মার স্ত্রী মালার (দেবলীনা দত্ত) জীবনযুদ্ধ। কারখানায় কাজ করে সংসার টানা মালা স্বামীর শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও, পেটের টানে শেষ পর্যন্ত এক অনভিপ্রেত সিদ্ধান্তের সামনে এসে দাঁড়ায় এই দম্পতি। হতাশায় ডুবে থাকা বিশ্বকর্মা তাঁর তোলা এক মর্মান্তিক ছবির মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত সাফল্য পান— কিন্তু সেই সাফল্যের দাম হয় চড়া।

সিনেমা দেখতে বসে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি দেবলীনা দত্ত। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, “রাহুল নেই এটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হচ্ছিল এই হলের মধ্যেই ও আমাদের পাশে বসে ছবিটা দেখছে।”
রাহুলের দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিচারণা করে বলেন, “ওর প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমরা’র স্ক্রিনিংয়ে এসেছিলাম ভাইয়ের সাফল্যের সাক্ষী হতে, আর আজ এলাম ওর শেষ ছবি দেখতে। কত কিছু করার ছিল বাবিনের (রাহুল), ওর বহুমুখী প্রতিভা এভাবেই অকালে হারিয়ে যাবে ভাবিনি।”
এই স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি রাহুলের অকালপ্রয়াণের তদন্ত নিয়ে সরব হন। রুদ্রনীল বলেন, “রাহুল আমার ভাইয়ের মতো ছিল। কাদের গাফিলতিতে তালসারির সমুদ্রে এমন ঘটনা ঘটল, সেই তদন্তের কাজ যাতে দ্রুত হয় তা আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখব।”
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ, ইন্দ্রাশিস আচার্য এবং নেত্রী দীপ্সিতা ধর, শতরূপ ঘোষ প্রমুখ। সকলেরই একটাই সুর— এই মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
রাহুলের সেই পরিচিত হাসি আর ‘ছবিওয়ালা’র লেন্স দিয়ে দেখা দুনিয়া— সবকিছুই যেন আজ এক বিষণ্ণ অধ্যায়। খুব শীঘ্রই সাধারণ দর্শকদের জন্য ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। শিল্পী হিসেবে রাহুল অমর হয়ে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে, তবে তাঁর অকালমৃত্যুর যে প্রশ্নগুলো তালসারির বালুচরে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে, তার উত্তর খুঁজে চলাই এখন তাঁর অনুরাগীদের একমাত্র দাবি।
প্রতিবেদন: নিউজ ডেস্ক, নিউজ ফ্রন্ট ডিজিটাল।