তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে উদ্ধার ১৪০ রাউন্ড গুলি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যে পালাবদলের আবহে ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। এবার খোদ বহরমপুর শহরের বুক থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। শনিবার সকালে বহরমপুর থানার গির্জাপাড়া এলাকায় এক গোপন অভিযানে পুলিশ ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪টি ম্যাগাজিন এবং ১৪০ রাউন্ড জ্যান্ত গুলি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের যোগসূত্র সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গির্জাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অসীম সরকারের বাড়িতে অস্ত্র মজুত রয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় বহরমপুর থানার পুলিশ। সেই মোতাবেক আজ সকালে অসীম সরকারের বাড়িতে হানা দেন পুলিশ আধিকারিকরা। তল্লাশিতে বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ১৪০ রাউন্ড গুলি এবং উন্নতমানের ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪টি ম্যাগাজিন। পুলিশের অনুমান, এলাকায় বড়সড় সন্ত্রাস ছড়ানোর লক্ষ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পলাতক অসীম সরকার নিজেকে তৃণমূলের টাউন যুব সভাপতি পাপাই ঘোষের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। উল্লেখ্য, এই পাপাই ঘোষ বহরমপুর পৌরসভার পৌরপিতা তথা বহরমপুর বিধানসভার পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, পাপাই ঘোষ মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামীও বটে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই অসীম সরকার ও পাপাই ঘোষ ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

অসীম ও পাপাই পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অসীম সরকারের স্ত্রী টুকু সরকারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে আজ বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) সুশান্ত রাজবংশী বলেন, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা অসীম সরকারের বাড়িতে অভিযান চালাই। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অসীম ও তার সহযোগী পাপাই ঘোষ বর্তমানে পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃত মহিলাকে হেফাজতে নিয়ে চক্রের বাকিদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে দায় এড়ানোর সুর শোনা গেছে বহরমপুরের পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে আইন তার নিজের পথেই চলবে।”