নিজস্ব সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর ও বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। শুক্রবার বিকেলে রঘুনাথগঞ্জের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ফুলতলা এলাকায় এই গোলমালের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, মিছিল থেকে দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বেশ কিছু দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য-সহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেলে জিলিপিপট্টি এবং ম্যাকেঞ্জি পার্ক থেকে আসা বেশ কয়েকটি রামনবমীর মিছিল রঘুনাথগঞ্জের ফুলতলা মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় একটি মসজিদের কাছে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং হোর্ডিংয়ে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিল চলাকালীন কিছু যুবক মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বাড়ির ছাদে উঠে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে দেয় এবং উসকানিমূলক আচরণ করে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়।

মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রঘুনাথগঞ্জ থানার মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায়। অভিযোগ, প্রায় ৪০টি দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বেশ কিছু দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কানুপুর থেকে ফেরা একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একাধিক টোটো ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। ঘটনার জেরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বাদানুবাদ তুঙ্গে উঠেছে। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরি সরাসরি প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন জানত এই এলাকায় উত্তেজনা হতে পারে, তাও কেন আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? রাম আর রহিমের মধ্যে কোনো ফারাক নেই, অশান্তি করে রামকে অপমান করা হচ্ছে।” তিনি সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানান।
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের দাবি, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, অন্য পক্ষ থেকে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এমন ঘটত না। পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিং যাদব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
জঙ্গিপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ খলিলুর রহমান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিপুরের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের সম্পদ। আমি সমস্ত শহরবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখার এবং ভাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’ এলাকায় দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ও জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে তিনি ইতিমধ্য়েই জেলা শাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারের (SP) সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।