নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বিকেলে বহরমপুরের জেলা দলীয় কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট জেলার দুটি সাংগঠনিক ভাগ মিলিয়ে ২২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করা।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি তথা কান্দি কেন্দ্রের প্রার্থী অপূর্ব সরকার, জেলা চেয়ারম্যান তথা হরিহরপাড়ার প্রার্থী নিয়ামত শেখ এবং জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীরা। বৈঠকে নবীন ও প্রবীণ প্রার্থীদের মেলবন্ধনে একগুচ্ছ নির্বাচনী গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ, নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) এবং প্রচারের আইনি দিকগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা— এবারের ভোট হবে রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ। কোনো ধরণের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। জনসংযোগে জোর দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার ইস্যু এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, যে সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে দল।
বৈঠকে ভগবানগোলার প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকার, ডোমকলের হুমায়ুন কবীর, মুর্শিদাবাদের শাওনি সিংহ রায়-সহ মোট ১৩ জন প্রার্থী এবং বিভিন্ন ব্লক ও টাউন সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২১ সালে মুর্শিদাবাদের ২০টি আসন দখল করেছিল তৃণমূল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে জেলাকে বিরোধী শূন্য করার ডাক দিয়েছে শাসকদল। অপূর্ব সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার ১৩টি আসনেই তৃণমূল জিতবে। আমরা আইনের পথে চলে শান্তির সঙ্গে মানুষের মন জয় করতে চাই।”