উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক সাংসদ ইউসুফ পাঠানের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামো ও ন্যাক (NAAC) মূল্যায়ন সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে সরাসরি ময়দানে নামলেন সাংসদ ইউসুফ পাঠান। শনিবার বহরমপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির খতিয়ান নেন। এদিনের বৈঠকে সাংসদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাসাসক (এল আর) পি. প্রমথ। তবে সমস্ত কলেজের অধ্যক্ষদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এদিনের বৈঠকে মাত্র তিনটি কলেজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিল বহরমপুর কলেজ, বহরমপুর গার্লস কলেজ এবং হাজি একে খান কলেজ।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা উচ্চশিক্ষার প্রসারে সাংসদের এই আগাম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে বহরমপুর গার্লস কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিকাঠামো সংক্রান্ত দীর্ঘ তালিকা সাংসদের হাতে তুলে দিয়েছে।
সাংসদ ইউসুফ পাঠান বলেন, জেলার কলেজগুলিকে জাতীয় মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং NAAC মূল্যায়নের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বৈঠকে কলেজগুলির প্রতিনিধিরা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে, যা NAAC মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কলেজগুলির তরফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়।
প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল নতুন শিক্ষানীতি (NEP) অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ায় অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষের জন্য নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ। বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরির আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার জন্য ‘সেন্ট্রাল ইনস্ট্রুমেন্টাল সেন্টার’ (CIC) উন্নত করা। বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রী ও প্রবীণদের সুবিধার জন্য মূল ভবনে লিফট স্থাপন। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন। কাম্পাস প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করা।

অধ্যক্ষদের কথা শোনার পর ইউসুফ পাঠান অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি জানান, উচ্চশিক্ষার গুণমান রক্ষায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হবেন। সুত্রের খবর “আগামী মাসেই তিনি ন্যাক (NAAC) এবং ইউজিসি (UGC) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দিল্লিতে এই বিষয়ে দেখা করতে চলেছেন।”

ইউসুফ পাঠান জানান, “আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের এলাকার কলেজগুলোর বর্তমান চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তাগুলো অনুধাবন করা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য কীভাবে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই আমি অধ্যক্ষদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনটি কলেজের প্রতিনিধিরা যেভাবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের পরিকাঠামোগত অভাব-অভিযোগ ও প্রয়োজনীয়তার কথা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তাতে আমি অত্যন্ত খুশি।”
তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমি আমার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাব। ছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নত করতে যা যা প্রয়োজন, তা পাওয়ার জন্য আমি সাধ্যমতো কাজ করব।”

বৈঠক শেষে বহরমপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ইন্দ্রাণী বসু আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানান, “আজকের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ন্যাক (NAAC)-এর নতুন ফ্রেমওয়ার্কের সুপারিশ বা নির্দেশিকাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। বিশেষ করে, উন্নত মানের গ্রেড বজায় রাখতে যে ধরনের আধুনিক পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয় এবং তার জন্য সরকারের কাছ থেকে আমরা কী কী সুযোগ-সুবিধা পেতে পারি, তা নিয়েই কথা হয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় এই উন্নয়নগুলি আমাদের কলেজের সীমিত সাধ্য বা ক্ষমতার বাইরে থাকে; সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সাংসদ বা সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব এবং পরিকাঠামোকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, মূলত সেই বিষয়গুলির ওপরই আজ আলোকপাত করা হয়েছে।”
হরিহরপাড়া হাজী একে খান কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর অরিন্দম নিয়োগী সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, “আজ সাংসদের সাথে আমাদের অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমাদের সাংসদ যে কতটা শিক্ষানুরাগী, তা আজ তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমরা অনুভব করলাম। একজন সফল খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও তিনি যেভাবে শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং খেলাধুলার সঙ্গে শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা ছাড়াও ‘স্টার্টআপ’ বা নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাকে কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় স্তরে দক্ষতা বৃদ্ধি বা ‘নিউ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ এবং বিশেষ করে বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ (Mental Health) রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাংসদের ভাবনা আমাদের মুগ্ধ করেছে।”
বহরমপুর গার্লস কলেজের প্রতিনিধি ডঃ মধু মিত্র তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, “সাংসদের কাছে আমাদের মূল দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছি। বর্তমানে আমাদের কলেজ মুর্শিদাবাদ জেলা এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ন্যাক (NAAC) মূল্যায়নে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। সেই অবস্থান থেকে আমরা মনে করি, আমাদের কলেজের পরিকাঠামো আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন এবং আমরা সেই স্বীকৃতির যোগ্য।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ন্যাক-এর নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী আমাদের যে সমস্ত তথ্যাদি বা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় ছিল, তা আমরা বিস্তারিতভাবে সাংসদকে জানিয়েছি। তাঁর ইতিবাচক মনোভাব দেখে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, অদূর ভবিষ্যতে কলেজের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা বড় কোনো সুখবর পাব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *