নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে ২০২৬ শেষ হওয়ার আগে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের ঘোষণায় জানা গেছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে মোট দুই দফায় এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভোটের দফা ভাগ করা হয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়েছে।
দুই দফায় ভোটগ্রহণ
রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার। এই দফার জন্য নির্বাচন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে ৩০ মার্চ। এই পর্যায়ে মূলত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ভোটগ্রহণ হবে।
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার। এই দফার বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় মূলত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে।
দুই দফার ভোট গণনা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ৪ মে ২০২৬, সোমবার। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য, আগামী ৬ মে-র মধ্যে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

জেলাভিত্তিক ভোটের নির্ঘণ্ট
প্রথম দফায় ভোট হবে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশে। এই দফায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাকি অংশ, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায়। এই দফায় মোট ১৪২টি আসনে ভোট হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৯৪টি। এর মধ্যে ৬৮টি আসন তপশিলি জাতি (SC) এবং ১৬টি আসন তপশিলি উপজাতি (ST)-এর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫২ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ২২৯ জন।
এছাড়াও ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৭৯ জন। ভিন্নভাবে সক্ষম ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ১৫২ জন।
এবারের নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মোট ৮০ হাজার ৭১৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১২০০ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
প্রবীণ নাগরিক (৮৫ বছর বা তার বেশি) এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য ঐচ্ছিক পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি করে সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র রাখা হবে।
নির্বাচন কমিশন পরিবেশ সুরক্ষার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করতে পারবেন।
কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সেই তথ্য সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে অন্তত তিনবার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দুই দফায় ভোটগ্রহণের এই নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।