নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ: বিদেশ ভ্রমণ হোক বা দেশের ভেতর যাতায়াত, সাধারণ যাত্রীদের পকেটে এবার বড় টান পড়তে চলেছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে বিমানের জ্বালানির (ATF) আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিকে সামাল দিতে মঙ্গলবার এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ। আগামী ১২ মার্চ (২০২৬) থেকে দফায় দফায় সমস্ত উড়ানে অতিরিক্ত জ্বালানি শুল্ক বা ‘ফুয়েল সারচার্জ’ কার্যকর করা হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী বিমান জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিমানের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয় এই জ্বালানির পেছনে। তার ওপর দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলোতে এটিএফ-এর ওপর উচ্চ আবগারি শুল্ক (Excise Duty) ও ভ্যাট (VAT) এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস সহ গ্রুপের সমস্ত বিমানের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে:
- প্রথম পর্যায় (১২ মার্চ, ২০২৬): এই তারিখের পর থেকে করা বুকিং-এর ক্ষেত্রে ভারত (ঘরোয়া রুট), সার্ক দেশসমূহ, পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার ফ্লাইটে বাড়তি ভাড়া দিতে হবে।
- দ্বিতীয় পর্যায় (১৮ মার্চ, ২০২৬): ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
- তৃতীয় পর্যায়: হংকং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দূর প্রাচ্যের (Far East) বাজারগুলোর জন্য পরবর্তী ঘোষণা করা হবে।
সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যারা টিকিট বুক করেছেন, তাঁদের কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। তবে যাত্রীরা যদি তাঁদের যাত্রার তারিখ বা রুট পরিবর্তন করতে চান, তবে নতুন ভাড়ার নিয়ম অনুযায়ী বাড়তি টাকা দিতে হতে পারে।
বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইটে কোনো ফুয়েল সারচার্জ নেওয়া হয় না, কিন্তু ১২ তারিখের পর সেই সুবিধা আর থাকবে না। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফ্লাইটের সংখ্যা স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অন্যথায় অনেক ফ্লাইট আর্থিক কারণে বাতিল করতে হতো।