ওয়াশিংটন/দিল্লি, ১১ মার্চ: মার্কিন জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (RIL)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো বৃহৎ তেল শোধনাগার তৈরির ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং’ (America First Refining)।
টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট অফ ব্রাউনসভিল-এ (Port of Brownsville) এই মেগা শোধনাগারটি গড়ে তোলা হবে। ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগকে আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এটি বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন তেল শোধনাগার হবে, যা কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি করা হয়েছে। কর হ্রাস এবং সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করার মাধ্যমে আমেরিকাকে জ্বালানি খাতে বিশ্বের শীর্ষে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
এই ঘোষণাটি এমন এক সংকটময় সময়ে এলো যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও তার সহযোগী শক্তিগুলোর ক্রমাগত আক্রমণে গ্লোবাল এনার্জি সাপ্লাই বা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেল পরিবহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম ও অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন মাটিতেই ঘরোয়া উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারকে স্থিতিশীল করতে এই নতুন শোধনাগারটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্সের এই বিশাল পদক্ষেপে ভারত ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছল। গুজরাটের জামনগরে বিশ্বের বৃহত্তম রিফাইনারি চালানোর অভিজ্ঞতাকে এবার আমেরিকার মাটিতে কাজে লাগাবে রিলায়েন্স। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের রিলায়েন্সের প্রভাব যেমন বাড়বে, তেমনি জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা মার্কিন অর্থনীতিও নতুন অক্সিজেন পাবে।