নয়াদিল্লি, ১০ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে এলএনজি (LNG) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ভারত সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ জোগান বজায় রাখতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার ‘অপরিহার্য পণ্য আইন ১৯৫৫’ কার্যকর করে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এবং সুষম বণ্টন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গ্যাজেট নোটিফিকেশন জারি করেছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এগুলি হলো গৃহস্থালীর পিএনজি (PNG): রান্নার গ্যাসের পাইপলাইন সরবরাহ। পরিবহণের সিএনজি (CNG): যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি। এলপিজি (LPG) উৎপাদন: রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া। পাইপলাইন অপারেশন: গ্যাস পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় কম্প্রেসর ফুয়েল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থাপনা।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বিগত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের ১০০ শতাংশ জোগান এই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে বজায় রাখা হবে। এছাড়া সার (Fertilizer) কারখানাগুলোকে তাদের গড় ব্যবহারের ৭০ শতাংশ এবং চা শিল্প বা অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থাকে ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হবে। জোগান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সরবরাহে কাটছাঁট করতে পারবে সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি ট্যাঙ্কার চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিদেশের বহু সরবরাহকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই ‘ফোর্স মেজিউর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সরবরাহ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাস এবং পরিবহণ ব্যবস্থা যাতে সচল থাকে, তা নিশ্চিত করতেই ১৯৫৫ সালের এই কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলো। এর ফলে গ্যাসের মজুতদারি বা কালোবাজারি রোখা এবং এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।