১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং-এর ঘোষণা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজ্যে ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ম্যারাথন বৈঠক সারল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মঙ্গলবার কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO), রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) নোডাল অফিসারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বড় বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
বিগত কয়েকদিন ধরে রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ছিল। সেই প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর-এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো একটি ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা। আমরা নিশ্চিত করব যাতে কোনো যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় না থাকে।” তিনি জানান, নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের জন্য ফর্ম ৬, ৭ এবং ৮ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে সচল রয়েছে।
এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু এবং ডঃ বিবেক জোশী। সাংবাদিক সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। প্রতিটি যোগ্য ভোটার যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কমিশন সেই ব্যবস্থা করবে।”
বাংলার ভোটের বিশাল কর্মযজ্ঞের খতিয়ান তুলে ধরে সিইসি (CEC) জানান রাজ্যে প্রায় ৮০,০০০ পোলিং স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬১,০০০ গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার রাজ্যের সমস্ত বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রতিটি বুথের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে পারবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) এবং জেলা স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বার্তা পরিষ্কার—ভোটের ময়দানে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব বা হিংসা সহ্য করা হবে না।