কলকাতায় সর্বদলীয় বৈঠকে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা নির্বাচন কমিশনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি তুঙ্গে। আজ সোমবার কলকাতায় জাতীয় ও রাজ্য স্তরের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসল ভারতের নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু এবং ডঃ বিবেক জোশীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআই(এম), কংগ্রেস, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই আসন্ন নির্বাচন এক বা বড়জোর দুই দফায় সম্পন্ন করার আর্জি জানিয়েছেন।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। বোমা, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং টাকার অপব্যবহার রুখতে কমিশনকে কোমর বেঁধে নামার অনুরোধ করেছে দলগুলি।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধনী বা SIR প্রক্রিয়ার ওপর অধিকাংশ দলই আস্থা প্রকাশ করেছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার হিংসা বা ভোটারদের ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “নির্বাচন কমিশনের নীতি হলো জিরো টলারেন্স। আইন মেনে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কোনো ত্রুটি রাখবে না।” একই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে তিনি জানান, SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে করা হয়েছে যাতে কোনো যোগ্য ভোটার বাদ না পড়েন এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় না থাকে। এখনও নাম তোলা বা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে (Form 6/7/8) বলে তিনি জানান।

দলীয় বৈঠকের পর কমিশন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, পুলিশ আইজি, ডিআইজি, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। সেখানে কমিশন একাধিক নির্দেশ দেয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আধিকারিকদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি বুথে র‍্যাম্প, হুইলচেয়ার এবং পানীয় জলের মতো ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ এবং বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।

আগামীকাল কমিশন রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসারদের সঙ্গে চূড়ান্ত দফার বৈঠক করবেন। এরপরই রাজ্যের সার্বিক নির্বাচনী পরিস্থিতির একটি রূপরেখা তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *