আমেদাবাদে ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় ভারতের

নিউজ ফ্রন্ট , আমেদাবাদ | ৮ মার্চ, ২০২৬

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আজ নীল সমুদ্রের গর্জন। ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ল ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে পরাজিত করে ভারত কেবল ট্রফিই জিতল না, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে একাধিক নতুন রেকর্ড স্থাপন করল। ২০০৭ এবং ২০২৪-এর পর এটি ভারতের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। সেই সঙ্গে প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু’বার (২০২৪ ও ২০২৬) এবং ঘরের মাঠে শিরোপা জেতার অনন্য কীর্তি গড়ল টিম ইন্ডিয়া।টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু কিউই বোলারদের সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ওপেনিংয়ে নেমে অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। অভিষেক মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। প্রথম উইকেটে তারা দুজনে মিলে মাত্র ৯৮ রান যোগ করেন।

তবে আজকের রাতের আসল নায়ক ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। তিন নম্বরে নেমে ঈশান কিষাণও দাপট দেখান (২৫ বলে ৫৪ রান)। শেষবেলায় শিবম দুবের ৮ বলে অপরাজিত ২৬ রানের ক্যামিও ভারতকে ২০ ওভারে ২৫৫/৫ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরে পৌঁছে দেয়। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় পেসারদের গতির মুখে দাঁড়াতে পারেননি কিউই টপ অর্ডার। ফিন অ্যালেন (৯), রাচিন রবীন্দ্র (১), গ্লেন ফিলিপস (৫) এবং মার্ক চ্যাপম্যান (৩) একে একে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ড্যারিল মিচেলও ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি।মিডল অর্ডারে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (৪৩) এবং টিম সাইফার্ট (৫২) কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অল-আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।ভারতের হয়ে বল হাতে একাই নিউজিল্যান্ডের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন জসপ্রীত বুমরাহ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দখল করেন। বাঁ-হাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল পান ৩টি উইকেট। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়া এবং বরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট নেন।এই জয়ের ফলে ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল। প্রথম দল হিসেবে আয়োজক দেশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার (Back-to-back) টি-টোয়েন্টি শিরোপা জয়। ফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর (২৫৫ রান)। ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর (সঞ্জু স্যামসন – ৮৯ রান)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *